খেলাধুলা

ক্রিকেট ও সমাজসেবায় অসামান্য নজির, ব্রিটেনের রাজকীয় স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গকন্যা ইশা

ব্রিটেনের রাজসম্মানে ভূষিত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তথা বাঙালি ক্রিকেট তারকা ইশা গুহ। সোমবার বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রিকেট এবং সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইশাকে ‘মেম্বার অফ দ্য মোস্ট এক্সেলেন্ট অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ (MBE) সম্মানে ভূষিত করছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। বিশ্ব ক্রিকেটে এই বঙ্গকন্যার এমন প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

আশির দশকে ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ারে ইশার জন্ম হলেও তাঁর নাড়ির টান কলকাতার সঙ্গে। সত্তর দশকে তাঁর বাবা-মা তিলোত্তমা ছেড়ে থিতু হয়েছিলেন ব্রিটেনে। শৈশবে বাড়ির উঠোনে ক্রিকেট খেলা শুরু করা ইশা মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। মজার বিষয় হলো, নিজের ‘পিতৃভূমি’ ভারতের বিরুদ্ধেই শুরু হয়েছিল তাঁর টেস্ট জীবন। ২০০১ থেকে ২০১১ এক দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের বোলিং ইউনিটের প্রধান স্তম্ভ। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য তো ছিলেনই, পাশাপাশি আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর বোলার হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেছিলেন তিনি।
মাঠের লড়াই শেষে ইশা হাতে তুলে নেন মাইক্রোফোন। সেখানেও সফল ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে কেবল ক্রিকেট নয়, নারী ক্ষমতায়ন ও ক্রিকেটে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি গঠন করেন নিজের সংস্থা ‘টেক হার লিড’। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) মতে, ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই তাঁকে এই রাজকীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

ইশার এই অর্জন নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন খুশির হাওয়া। বাংলার শেকড় থেকে উঠে গিয়ে বিলেতের রাজদরবারে এমন সম্মান পাওয়া রিচা ঘোষ বা দীপ্তি শর্মাদের মতো আগামী দিনের নারী ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.