ইন্ডিয়ান সুপার লিগের আসন্ন মরশুম ঘিরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে তাতে ইতি পড়ল। লিগে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দলই ফেডারেশনকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এবছর মাঠে নামতে প্রস্তুত। মাঝখানে ওড়িশা এফসি-কে নিয়ে ফুটবল মহলে বেশ কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, কারণ তারা না শুরু করেছিল প্র্যাকটিস, না ছিল তাদের হাতে কোচ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ওড়িশাও সবুজ সংকেত দিয়ে দেওয়ায় স্বস্তিতে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দুপুরের সময়সীমার মধ্যেই প্রতিটি ক্লাব তাদের হোম ভেন্যু বা ঘরের মাঠের তালিকা জমা দিয়েছে। কলকাতার বড় দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল যথারীতি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকেই তাদের দুর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, মহামেডান স্পোর্টিং তাদের ম্যাচগুলো খেলবে কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে। ভেন্যু নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল নতুন দল ইন্টার কাশীকে নিয়ে। তারা অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট মাঠের দাবি না জানিয়ে ফেডারেশনের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ‘সুইস মডেলে’র লিগ হওয়ায় ফেডারেশন যেখানেই সূচি নির্ধারণ করবে, তারা সেখানেই খেলতে রাজি। এছাড়া হায়দরাবাদ এফসি এখন খাতা-কলমে অতীত; দলটি ‘স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি’ নামে নতুন পরিচয় নিয়ে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম থেকে তাদের যাত্রা শুরু করবে। পাঞ্জাব এফসি-র ঘরও হতে চলেছে দিল্লির এই মাঠই।
ফেডারেশন সূত্রে খবর, দলগুলোর এই সম্মতির চিঠি হাতে পাওয়ার পর এখন সূচি ঘোষণার পালা। যেহেতু আগামী মাসের ১৪ তারিখ থেকেই বল মাঠে গড়ানোর কথা, তাই দলগুলোকে প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় দিতে দু-এক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকেও (AFC) চিঠি লিখছে ফেডারেশন, যাতে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে ভারতের স্লটগুলো নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই ক্লাবগুলো মৌখিকভাবে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ওড়িশা এফসি-র অন্দরমহলের অস্থিরতা এবং কোচ সার্জিও লোবেরার ক্লাব ছাড়ার খবরে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এখন লিখিতভাবে সবটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগ ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।







