নয়াদিল্লি: দেশের সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর বিশিষ্ট সেবা পদক পাচ্ছেন ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির তরফে ঘোষিত পদকপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম।
১৯৭৪ সালে গুজরাতের বডোদরায় জন্ম সোফিয়া কুরেশির। ১৯৯৭ সালে জৈবরসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যোগ দেন ভারতীয় সেনায়। বর্তমানে তিনি সেনার সামরিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্স অভিযান সহায়ক শাখা—সিগন্যাল কোরের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক।
গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটিতে ভারতের প্রত্যাঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে নজর কেড়েছিল সেনার সাংবাদিক বৈঠক। সেই সময় ‘সিঁদুর অভিযান’-এর প্রতিটি কৌশলগত পদক্ষেপ কেন এবং কী ভাবে নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ। অনেকের মতে, ওই সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে দেশের সামরিক বাহিনীতে নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
২০১৬ সালে প্রথম বার জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসেন কর্নেল সোফিয়া। সে বছর পুণেতে আয়োজিত ভারতের বৃহত্তম বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ১৮টি দেশের সেনার নেতৃত্ব দেন তিনি। জাপান, চিন, আমেরিকা, রাশিয়া-সহ একাধিক দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই মহড়ায় প্রথম মহিলা হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর পদ ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। ২০০৬ সালে কঙ্গোয় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিবাহিনীতে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোফিয়া কুরেশি। নারী অফিসারদের স্থায়ী কমিশন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টেও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে তাঁর নাম।
এ বছর কর্নেল কুরেশি-সহ মোট ১৩৫ জনকে বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ জন পাচ্ছেন পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, চার জন উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক, ৫৬ জন অতি বিশিষ্ট সেবা পদক, ৯ জন যুদ্ধ সেবা পদক, ৪৩ জন সেনা পদক, আট জন নৌসেনা পদক এবং ১৪ জন বায়ুসেনা পদক।
এ ছাড়াও, দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী হিসেবে পরিচিত বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল পাচ্ছেন অশোক চক্র। তিন জনকে কীর্তি চক্র এবং ১৩ জনকে শৌর্য চক্র দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।







