রতন টাটার প্রয়াণের পর থেকেই টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে টাটা ট্রাস্টের সঙ্গে মতবিরোধ এবার নতুন মাত্রা পেল। বিরোধ মেটাতে মুখোমুখি হয়েছিলেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং এন চন্দ্রশেখরন। কিন্তু সেই বৈঠকেও বরফ গলল না বলেই খবর।
‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর দুই শীর্ষ কর্তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন কর্তা এনএ সুনাওয়ালার উদ্যোগেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। সংস্থার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং মালিকানা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল টাটা সন্সের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি বা লিস্টিং। পাশাপাশি সাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠীর হাতে থাকা অংশীদারিত্ব কিনে নেওয়া এবং এন চন্দ্রশেখরনের চেয়ারম্যান পদে মেয়াদ নিয়েও কথা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
এরপরই ২৬ অক্টোবর নতুন করে সরব হন নোয়েল টাটা। চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সেই সংক্রান্ত ভোটাভুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি দেন তিনি। বোর্ড বৈঠকের রেকর্ডিং, আলোচনার সারাংশ এবং ভোটের বিস্তারিত নথিও চেয়ে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুই পক্ষের মতবিরোধ যে এখনও মেটেনি, তা স্পষ্ট।
এদিকে আগামী ১২ নভেম্বর টাটা গোষ্ঠীর ছয়টি সংস্থার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা নোয়েল টাটার। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ৭০ বছর বয়স পূর্ণ হলে নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরদের পদ ছাড়তে হয়। ট্রেন্ট, ভোল্টাস, টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন-সহ একাধিক সংস্থার বোর্ড থেকে সরে গেলেও টাটা সন্সের নমিনি ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর ভূমিকা বজায় থাকবে।
সব মিলিয়ে, নোয়েল টাটা ও এন চন্দ্রশেখরনের বৈঠক ঘিরে সমাধানের যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অধরাই। টাটা গোষ্ঠীর নেতৃত্ব নিয়ে এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।







