রাজনৈতিক মহলে বহুল চর্চিত বিহার বিধান পরিষদের দারভাঙা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল সমকালীন রাজনীতির এক নতুন সমীকরণকে সামনে এনে দিল। প্রায় ৬০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গণনা এবং ৩৯ রাউন্ডের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী এমএলসি সর্বেশ কুমারকে পরাজিত করলেন আরজেডি-র অনিল কুমার ঝা। বিহারের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী এই দুর্গে লালু প্রসাদ যাদবের দলের এই জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত ২৩শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক গতিপ্রকৃতি কিন্তু ভিন্ন আভাস দিচ্ছিল। প্রথম দিককার রাউন্ডগুলোতে বিজেপি প্রার্থী সর্বেশ কুমার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে আরজেডি শিবিরকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। ৩৮তম রাউন্ডের শেষেও কুমার ১,০০৪ ভোটের ব্যবধানে স্পষ্ট এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ৩৯তম রাউন্ডে এসে রাজনীতির দাবার বোর্ডটি সম্পূর্ণ উল্টে যায় একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট বা ‘সিঙ্গেল ট্রান্সফারেবল ভোট’ (STV) পদ্ধতির অনন্য বৈশিষ্ট্যে।
এই নাটকীয় মোড় পরিবর্তনের নেপথ্যে অনুঘটকের কাজ করেছে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী মহম্মদ ইমতিয়াজ নুরানির লড়াই থেকে বাদ পড়া। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, নুরানি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতেই তাঁর সমর্থকদের ২,৯০০টি দ্বিতীয় পছন্দের হস্তান্তরযোগ্য ভোট চলে যায় আরজেডি প্রার্থী অনিল কুমার ঝা-এর ঝুলিতে। বিপরীতে, বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে আসে মাত্র ১,৩৬৩টি ভোট। এই স্থানান্তরই খেলার গতিপথ বদলে দেয় এবং শেষ রাউন্ডে ঝা ৫৩৩ ভোটের ব্যবধানে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে নেন।
দারভাঙার এই ফলাফল প্রচলিত ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ নির্বাচনী ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এসটিভি (STV) পদ্ধতির কাঠামোগত গুরুত্বকে পুনর্বার প্রমাণ করল। যেখানে কেবল প্রথম পছন্দের ভোটই শেষ কথা বলে না, বরং ভোটারদের দ্বিতীয় বা পরবর্তী পছন্দের সূক্ষ্ম অগ্রাধিকারও যেকোনো নিশ্চিত জয়কে পরাজয়ে রূপান্তরিত করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে সুরক্ষিত থাকা বিজেপির এই গড় হাতছাড়া হওয়া যেমন গেরুয়া শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা, তেমনই আরজেডি-র এই কৌশলগত উত্থান আগামী দিনে বিহারের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা— সেটাই এখন দেখার।






