কেন্দ্ররাজনীতি

দিল্লির রাজপথে ‘রাহুলী’ চাল: বিরোধী জোটের ‘ইন্ডিয়া মার্চ’ বনাম আইন

নভেম্বরের মহাসমাবেশের আগেই দিল্লির রাজনৈতিক পিচে ছক্কা হাঁকালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “চলুন একসঙ্গে হাঁটি” বার্তা দিয়ে রবিবাসরীয় দুপুরের রাজপথকে এক ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ মিছিলে রূপ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। কনট প্লেসের মিন্টো রোড থেকে আজমেরী গেট হয়ে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত এই ‘ইন্ডিয়া মার্চ’ আসলে দেশের নির্বাচন কমিশন এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এক বড়সড় ‘পলিটিক্যাল ওয়াক’। রাহুলের স্পষ্ট তোপ— মোদী-শাহ জমানায় গণতন্ত্র আজ বিপন্ন, আর তাই উত্তরপ্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানা, সব রাজ্যের বিরোধী স্বরকে এক সুতোয় বাঁধতেই এই মহামিছিল। যদিও তাঁর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি রাজ্যগুলোর সীমানায় ‘স্পিড ব্রেকার’ বসিয়ে কর্মীদের দিল্লি আসতে বাধা দিচ্ছেন।
তবে রাজনীতির এই ‘দাওয়াই’ রুখতে প্রশাসনও তৈরি রেখেছে তাদের ‘আইনি ব্যারিকেড’। দিল্লি পুলিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কনট প্লেসের এই পদযাত্রার খাতায় কোনো ‘অনুমতির সই’ পড়েনি। উপরন্তু, নতুন দিল্লির আকাশে এখন উড়ছে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS)-এর ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞা, যা যেকোনো জমায়েতের ওপর আইনি ‘ফুলস্টপ’ বসাতে সক্ষম। পুলিশের কড়া বার্তা— নেতাদের ‘গাড়ির চাকা’ খাড়গিজির বাড়ি পর্যন্ত ঘুরতেই পারে, কিন্তু রাজপথে ‘পায়ের পাতা’ ফেলার ছাড়পত্র মিলবে না। রাজনীতির এই টানাপড়েনের মাঝেই আজ বিকেলে কংগ্রেস সভাপতির বাসভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট বা ‘অভিশংসনের আসর’ বসাচ্ছেন ক্ষুব্ধ নেতারা। এখন দেখার, পুলিশের এই আইনি ‘শৃঙ্খল’ ভেঙে বিরোধীদের এই পদযাত্রা রামলীলা ময়দানের ‘মঞ্চ’ ছুঁতে পারে কি না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.