প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সততা কেবল কোনো শাসন ব্যবস্থার অলংকার নয়, বরং তা নাগরিক আস্থার মূল ভিত্তি। কিন্তু যখনই সেই ব্যবস্থার শীর্ষবিন্দুতে আসীন কোনো ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন তা সামগ্রিক কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। রাজস্থান ক্যাডারের প্রবীণ আইএএস আধিকারিক শিখর আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB) কর্তৃক শুরু হওয়া প্রাথমিক অনুসন্ধানটি সমকালীন আমলাতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রশ্নে এক নতুন এবং অস্বস্তিকর অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজ্য সরকার ইতিপূর্বেই তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে এবং তাঁকে ‘অপেক্ষমাণ পোস্টিং’ (APO)-এর তালিকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এই অনুসন্ধানের গভীরে প্রবেশ করলে যে তথ্যচিত্রটি উদঘাটিত হয়, তা ক্ষমতার অপব্যবহারের এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখাকেই নির্দেশ করে। অভিযোগ উঠেছে, শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘অনন্ত’ রিসর্ট শৃঙ্খলের পরিচালক সংস্থা ‘গোয়াল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-কে বিধি বহির্ভূতভাবে নানাবিধ ছাড় ও রেয়াতি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। এর সমান্তরালে, এক আশ্চর্য পারস্পরিকতায়, তিনি এবং তাঁর আইপিএস পদমর্যাদার পত্নী প্রশাখা মাথুর উদয়পুরের বুজদা রিসর্টে মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা প্রতি পিস মূল্যে ২০টি বিলাসবহুল ভিলা নিজেদের নামে নিবন্ধিত করেন। এছাড়াও আলওয়ারের আজবগড়ে ১৬.৫ লক্ষ টাকা মূল্যে আরও ৮টি ভিলা এবং তাঁদের দুই পুত্র ও নিকটাত্মীয়দের নামে সমজাতীয় মূল্যে আরও একাধিক সম্পত্তি ক্রয়ের হদিস মিলেছে— যার আর্থিক মূল্য স্বাভাবিক বাজারদরের চেয়ে বহুগুণ কম।
এই ঘটনাক্রমের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং কুয়াশাবৃত অধ্যায়টি হলো এর সময়কাল। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭শে মার্চ ঠিক যে দিন সরকারের অর্থ দফতর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটির অনুকূলে একটি বিশেষ রেয়াতি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে, ঠিক সেই দিনই আইএএস আগরওয়াল এই বিশাল ভূসম্পত্তির আইনি মালিকানা সম্পন্ন করেছিলেন। অতীতে উদয়পুরের জেলা কালেক্টর কিংবা রাজস্থান দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকালও এখন এসিবি-র পর্যালোচনার আওতাধীন। ক্ষমতার শীর্ষাসনে বসে জনস্বার্থকে এভাবে ব্যক্তিস্বার্থের সমীকরণে রূপান্তরিত করার এই অভিযোগ কেবল একজন আধিকারিকের স্খলন নয়, বরং তা সুশাসনের আদর্শকে কালিমালিপ্ত করে। এই উচ্চ-প্রোফাইল মামলার একটি নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তই পারে আইনের শাসন ও নৈতিকতার পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে।







