প্রকৃতির পরম বিস্ময় নেপালের গভীরতম নীল হ্রদ ‘শে-ফোকসুন্দো’ ছোঁয়া ছিল তাদের স্বপ্ন। একবুক রোমাঞ্চ আর পাহাড়ের বিশালতাকে ভালোবাসার টানেই পা বাড়িয়েছিলেন ছয়জন ভারতীয় ট্রেকার—চারজন তরুণ ও দুইজন তরুণী। কিন্তু প্রকৃতির এক নিদারুণ পরিহাসে, হিমালয়ের সেই শ্বেত-শুভ্র পাহাড় আজ তাদের কাছে এক অনিশ্চিত বন্দিশালা হয়ে উঠেছে।
বঙ্গোপসাগরের মেঘে ঢাকা আবহাওয়া আর স্থানীয়দের সতর্কবার্তাকে তুচ্ছ করে যে পথ তারা পাড়ি দিয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত বদলে গেল ভারী তুষারপাতের শুভ্র আঁধারে। নামলা আর বাগলা পাসের কঠিন পাহাড়ি গিরিখাতে তারা হারিয়ে গেছেন চরম এক নিঃসঙ্গতায়। যেখানে নেই কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক, নেই যোগাযোগের এক ফোঁটা সুযোগ—আছে কেবল হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর চারপাশের নিস্তব্ধ বরফের চাদর।
বাড়ি ফিরে আসার তীব্র আকুলতা নিয়ে তারা আজ হয়তো পাহাড়ি কোনো গুহায় আলো খোঁজার আকুল চেষ্টা করছেন। এদিকে দেশে তাদের স্বজনদের প্রতিটি প্রহর কাটছে চোখের জলে আর বুকভাঙা প্রার্থনায়।
নেপাল সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল তুষারঝড় উপেক্ষা করে হেলিকপ্টার নিয়ে রওনা হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে। শুভ্র এই বরফের বুক চিরে ছয়টি জীবন যেন অক্ষত ও নিরাপদে প্রিয়জনের কোলে ফিরে আসতে পারে—এখন পুরো দেশ সেই অলৌকিক মুহূর্তের অপেক্ষাতেই প্রার্থনা জপছে।







