দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে বিচারিক কাজ চলাকালীন প্রধান বিচারপতি (CJI) বি.আর. গাভাইকে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ার চেষ্টা করেন এক প্রবীণ আইনজীবী। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় জুতোটি বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। দ্রুত ওই আইনজীবীকে আটক করা হয়। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য।
কারণ হিসেবে উঠল ‘সনাতন ধর্মের অপমান’-এর অভিযোগ
জানা গেছে, ৭১ বছর বয়সী অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম রাকেশ কিশোর। পুলিশি জেরায় তিনি দাবি করেছেন, খাজুরাহো মন্দিরে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলায় সিজেআই গাভাইয়ের মন্তব্যে তিনি ক্ষুব্ধ হন। কিশোরের অভিযোগ, বিচারপতি রসিকতার সুরে বলেছিলেন—“যান, দেবতাকে নিজেই কিছু করতে বলুন।” তাঁর দাবি, এই মন্তব্য সনাতন ধর্মের প্রতি অসম্মানজনক।
তদন্তে উঠে এসেছে, কিশোরের কাছে পাওয়া এক নোটে লেখা ছিল—“ভারত সনাতন ধর্মের অপমান মেনে নেবে না।” তিনি আরও বলেন, নূপুর শর্মা, হালদওয়ানি, কিংবা জাল্লিকাট্টুর মতো মামলায়ও আদালতের সিদ্ধান্ত তাঁকে ব্যথিত করেছে।
শান্ত থাকলেন সিজেআই গাভাই
এই অভূতপূর্ব ঘটনার পরও বিচারপতি গাভাই নিজেকে সম্পূর্ণ স্থির রাখেন। তিনি বলেন, “এসব দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমি প্রভাবিত হইনি।” এরপরও তিনি আগের মতোই শুনানি চালিয়ে যান।
নিন্দায় সরব দেশজোড়া রাজনৈতিক মহল
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির উপর হামলা প্রতিটি ভারতবাসীকে আহত করেছে।” তিনি গাভাইয়ের স্থিতধী মনোভাবের প্রশংসাও করেন।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি শুধু একজন বিচারপতির উপর হামলা নয়, সংবিধানের উপরও আঘাত।”
‘ঈশ্বরই করিয়েছেন’— অনুতপ্ত নন অভিযুক্ত আইনজীবী
পরদিন এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিশোর জানান, তিনি কোনও অনুতাপ অনুভব করছেন না। বরং দাবি করেন, “আমি কিছু করিনি, ঈশ্বর আমার মাধ্যমে করিয়েছেন।” তাঁর কথায়, ১৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর থেকে তিনি ঘুমোতে পারছিলেন না, এক ‘ঐশ্বরিক শক্তি’ তাঁকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আইনি ও নৈতিক প্রশ্নে নতুন বিতর্ক
এই ঘটনা দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সংবেদনশীল ধর্মীয় ইস্যুগুলির প্রতি আদালতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিচারপতির মন্তব্যগুলি কখনও কখনও জনমানসে ভুল ব্যাখ্যা পায়, যা আদালতের মর্যাদাকে প্রভাবিত করে।
তবে গাভাই নিজে পরবর্তীতে পরিষ্কার জানান—তিনি সব ধর্মকেই সমান শ্রদ্ধা করেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন পদে থেকে ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সংযমী হওয়া জরুরি।







