দিনের পর দিন রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সোনা ও রুপোর দাম। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে রুপোর বাজার কার্যত উল্কার মতো ছুটছিল। কিন্তু সেই দৌড়ে আচমকাই ছেদ। গত ৪৮ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে দুই মূল্যবান ধাতুরই দাম। মাত্র দু’দিনে সোনা সস্তা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা, আর রুপোর দর কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলের মতে, এই দরপতন আপাতত কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যতে ফের দাম বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই মধ্যবিত্ত ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের চোখ এখন কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকেই। রবিবার সংসদে পেশ হওয়া বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমান কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাজার।
ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় সোনার সর্বোচ্চ দর উঠেছিল গত ২৯ জানুয়ারি। সেদিন ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ছিল ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৫০ টাকা। কিন্তু শনিবার সেই দাম নেমে এসেছে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সোনার দর কমেছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছে রুপোর বাজার। ২৯ জানুয়ারি কলকাতায় এক কিলো খুচরো রুপোর দাম পৌঁছেছিল ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪০০ টাকায়। শনিবার তা নেমে এসেছে ৩ লক্ষ ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ফলে ৪৮ ঘণ্টায় রুপোর দর কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ। ফেডারেল ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান, ডলারের তুলনায় টাকার দরপতন এবং বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়েই সোনা ও রুপোর বাজারে এই তীব্র ওঠানামা।
তবে ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, এই অস্থিরতা এখনও কাটেনি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ফের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। সেই কারণেই দামের লাগাম টানার একমাত্র উপায় হিসেবে বাজেটকেই দেখছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত বছর বাজেটে সোনার আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছিল। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বাজারে, অনেকটাই নেমে এসেছিল সোনার দাম। সেই নজির টেনেই এবার আরও বড় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে ব্যবসায়ী মহলে।







