বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গঠনের বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা এই নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল মিললে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ক্ষমতায় ফিরবে বিএনপি—এমনই দাবি দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, বিএনপি বা তাদের নেতৃত্বাধীন জোট অন্য কোনও দল কিংবা জোটের সমর্থন ছাড়াই একক শক্তিতে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩০০। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে লড়াই করছে ২৯১টি আসনে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তারেক রহমান, দল কতগুলি আসন পেতে পারে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি।
এই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান ভোটের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্য,
“যাদের বিরুদ্ধে আমরা নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছি, তাদের সঙ্গেই কীভাবে সরকার গঠন সম্ভব? সে ক্ষেত্রে বিরোধী দলই বা কারা হবে?”
তবে একই সঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি উপযুক্ত ভূমিকা পালন করে, তাহলে তারা শক্তিশালী বিরোধী দল হতে পারে—এতে গণতন্ত্রই আরও মজবুত হবে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশগ্রহণ না করায় মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিএনপি ও জামাত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তারেক রহমানের মা, প্রয়াত খালেদা জিয়া। তবে পরবর্তীকালে ক্ষমতা হারানোর পর দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং দীর্ঘদিন ধরেই তারা আলাদা পথে রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নেমেছে।
বিএনপির প্রচারে প্রধান অভিযোগ—জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, ফলে দেশ শাসনের কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই।
অন্যদিকে জামাতের অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি কার্যত আরেকটি আওয়ামী লিগে পরিণত হয়েছে—যারা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করেছে এবং যাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।
যদিও বেশিরভাগ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষায় বিএনপিকে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী দলগুলি এবারের নির্বাচনে বিএনপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ভারত ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা—দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই কাজে যে দেশের প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষে বেশি লাভজনক হবে, তাকেই স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। তবে আলাদা করে ভারত বা চিন—কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করতে চাননি বিএনপি চেয়ারম্যান।
সব মিলিয়ে, ১২ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে, আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে এখন বিএনপি বনাম জামাত—দু’টি প্রাক্তন মিত্রের মুখোমুখি সংঘর্ষ।







