বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অনিচ্ছুক থাকলেও ত্রিপাক্ষিক সিরিজের প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে রাজি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বয়কট বিতর্কে নতুন অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে একাধিক দাবি পেশ করেছে তারা। পাকিস্তানের দাবি, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা হলে বয়কট প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত বাবর আজমের দল।
রবিবার আইসিসি’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সূত্রের খবর, বৈঠকে পাকিস্তান বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়—ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে তারা রাজি নয়, তবে আইসিসি যদি ত্রিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা হলে অবস্থান বদলাতে পারে পিসিবি।
তবে পাকিস্তানের এই দাবি নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না আইসিসি। কারণ, ত্রিপাক্ষিক বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত আইসিসি’র এক্তিয়ারে পড়ে না। এ ধরনের সিরিজ আয়োজন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমতির উপর। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে ভারত সরকার ও বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০১২ সালের পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার বাইরে গিয়ে নতুন করে কোনও সিরিজ আয়োজন কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত মহল।
এর আগেই আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে কেন্দ্র করে ‘হাইব্রিড মডেল’ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে এবার সেই মডেলকেও আরও বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর রাখার দাবি তুলেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বোর্ড। উল্লেখ্য, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও বাংলাদেশ। দুই বোর্ডেরই দাবি, ওই বিশ্বকাপে পাকিস্তান যেন তাদের সব ম্যাচ বাংলাদেশে খেলতে পারে।
এই মুহূর্তে পিসিবি’র কোনও দাবিতেই সায় দিচ্ছে না আইসিসি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চায় পাকিস্তান যেন বয়কট প্রত্যাহার করে নেয় এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে অংশ নেয়।
বয়কট বিতর্কে এমনিতেই আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা পাকিস্তান। আইসিসি’র তরফে দাবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হয় কি না বাবর আজমরা—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট দুনিয়ার।







