নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বড় বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী। ৬ দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানির সিইওদের সামনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন এআই শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, এটি মানব সভ্যতার পরবর্তী মোড়।
ভাষণে তিনি তুলে ধরেন তাঁর প্রস্তাবিত MANAV ভিশন, যা এআই ব্যবহারের একটি নৈতিক কাঠামো হিসেবে বিশ্বকে দিশা দেখাতে পারে। MANAV-এর ব্যাখ্যায় জানা গেছে, M অর্থ নৈতিক ও নীতিগত নির্দেশিকা, A জবাবদিহিমূলক শাসন, N জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, A সবার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি, ও V আইনি বৈধতা। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এগিয়ে নিতে হলে এই ৫ স্তম্ভ অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী এআইকে তুলনা করেন জিপিএসের সঙ্গে। জিপিএস যেমন পথ দেখায়, তেমনি সেই পথ সঠিক কি না, তা যাচাই করাও জরুরি। একইভাবে, এআইকে সঠিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হবে।
তিনি জানিয়েছেন, এআই মেশিনের ক্ষমতা বাড়ালেও আসল শক্তি দিচ্ছে মানুষের দক্ষতাকে। তবে এবার পরিবর্তনের গতি ও পরিসর অভূতপূর্ব।
মেশিন লার্নিং থেকে ‘লার্নিং মেশিন’-এর দ্রুত রূপান্তরকে উল্লেখ করে মোদী জানান, প্রযুক্তির এই যুগে দায়িত্বও সমানভাবে বিস্তৃত। আগামী প্রজন্মের জন্য কী উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছি, সে প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পরিচয় যেন কেবল ডেটা পয়েন্টে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে দিকেও সতর্ক করেন তিনি। গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম বৈশ্বিক এআই শীর্ষ সম্মেলন হিসেবে এই AI Impact Summit 2026-কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আগুনের আবিষ্কার থেকে ওয়্যারলেস যোগাযোগ—মানব ইতিহাসের প্রতিটি বড় রূপান্তরের মতোই, এআই-ও নতুন এক দিগন্তের সূচনা করছে বলে তাঁর মন্তব্য।







