ভোটের আবহে ‘লকডাউন’ শব্দটি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরেই এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহা ফুটবল ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অতীতের কোভিড পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। জানান, কঠিন লকডাউনের সময়েও তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে থেকেছে ও ভবিষ্যতে যেকোনও প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় দল প্রস্তুত। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা এই ধরনের আলোচনার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক স্তরে এ নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
সভা মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই তালিকা নাকি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের আইনি সহায়তা দেবে তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক প্রকল্প নিয়েও বার্তা দেন তিনি। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘যুবসাথী’ ও ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ এই তিন প্রকল্প চালু থাকবে এবং এগুলির কাজ আরও জোরদার করা হবে বলে জানান। একই সঙ্গে এনআরসি ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করেন, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে বাংলায় তা কার্যকর হতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ‘লকডাউন’ মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল।







