স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়ার সুযোগে , ভয়ংকর ঘটনা ঘটালেন স্বামী ? প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে খুন করলেন স্বামী ? তার বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে খুন করে , তার দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে ভরে রাখার অভিযোগ ওঠেছে । বিশাখাপত্তনমের গাজুওয়াকা এলাকা থেকে এই ঘটনার খবর সামনে আসছে । জানা গিয়েছে, মৃতার নাম পলিপল্লি মৌনিকা। অভিযুক্ত ব্যক্তি চিন্তাদা রবীন্দ্র, যিনি পেশায় একজন মার্চেন্ট নেভি অফিসার বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবীন্দ্র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে মৌনিকারের পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং তাঁরা প্রায়ই একসঙ্গে ঘুরতে যেতেন বলে জানা যায়। রবিবার দুপুরে রবীন্দ্র মৌনিকাকে তাঁর গাজুওয়াকার ভাড়া বাড়িতে আসতে বলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানে পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে তীব্র বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, মৌনিকা তাঁদের সম্পর্ক প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা—তদন্তকারীদের মতে, শ্বাসরোধ করে মৌনিকাকে হত্যা করা হয়।
প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও রবীন্দ্র পালিয়ে যাননি। ঘটনার পর তিনি নিজেই গাজুওয়াকা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। এরপর পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে দেহাংশ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না; সন্তানের জন্মের পর তিনি বাপের বাড়িতে ছিলেন। সেই সুযোগে প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে এনে খুনের ছক কষেন রবীন্দ্র। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রথমে একটি দোকান থেকে ছুরি কিনতে চেয়েছিলেন, পরে তা অনলাইনে অর্ডার করেন। অভিযোগ, সেই ছুরি দিয়েই দেহ টুকরো করা হয়। দেহ তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে—একটি অংশ ফ্রিজে রাখা হয়, অন্যটি বস্তায় ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়, এবং মাথা ও হাত নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঘটনা টের পাননি; বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল।







