পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এর ফলে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে।
দুই দফায় ভোট পশ্চিমবঙ্গে
এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়।
প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসনে ভোট
দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসনে ভোট
সব মিলিয়ে ২৯৪টি আসনের ভোটগ্রহণ দুই দফাতেই সম্পন্ন হবে।
ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
দলগুলির দৌড়—প্রার্থী ঘোষণায় তুঙ্গে উত্তাপ
ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা শুরু করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এক দফাতেই ২৯১টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিজেপি তিন দফায় তালিকা প্রকাশ করেছে—প্রথম দফায় ১৪৪, দ্বিতীয় দফায় ১১২, তৃতীয় দফায় ১৯ প্রার্থী।
বামফ্রন্ট তিন দফায় মোট ২৩৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
কংগ্রেস রবিবার ২৮৪টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই প্রার্থী দৌড় এবং প্রচারের ঝাঁঝে বাংলা এখন কার্যত উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন।
আধিকারিক বদলিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক
ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে একযোগে বিশাল রদবদল নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২৬৭ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১৭৩টি থানার ওসি ও আইসি—মোট ১৮৪ পুলিশ আধিকারিক একইসঙ্গে বদলি হন।
একই দিনে ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও-কেও বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, একদিনে এত সংখ্যক আধিকারিকের বদলি নজিরবিহীন এবং নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।
এই ইস্যুতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলার অনুমতি চান তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত সেই অনুমতিও দিয়েছে।
বিজেপির পাল্টা মত
বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,
“ভোটের আগে প্রশাসনিক বদলি স্বাভাবিক বিষয়। নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বাংলায় বিষয়টি বড় করে দেখা হচ্ছে কারণ অনেক আধিকারিকই তৃণমূলের নির্দেশেই কাজ করেন।”
নজর এখন দুই দফার ভোট ও ৪ মের ফলাফলে
ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দান আরও উত্তপ্ত। প্রার্থী তালিকা, পাল্টা অভিযোগ এবং প্রচারের তীব্রতায় নির্বাচনী আবহ এখন চরমে।
এখন সারা রাজ্যের নজর ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণ এবং ৪ মের ফলাফলের দিকে—যা আগামী দিনের বাংলার রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণ করবে।







