বিধানসভা ভোটের মুখে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। বুধবার ভোর থেকেই দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক প্রতারণা মামলায় পলাতক অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার, ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বাসভবনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকানায় চলে এই অভিযান।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফার্ন রোডে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি, পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। ভোটমুখী কলকাতায় এমন সময় এই তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ-সূত্র মিলেছে বলে মনে করছে তদন্ত দফতর।
কিছুদিন আগেই গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয় সোনা পাপ্পুর নাম। এলাকাবাসীদের দাবি, তাঁর দলবলই এলাকায় দখলদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল। ২০২২ সালে কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে গ্রেফতার হলেও অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই জেল থেকে বেরিয়ে ফের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থার অনুমান, নির্মাণকার্যের নামে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছিলেন। পুরসভার ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বেআইনি নির্মাণের অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। মাত্র এক মাস আগে পুরসভার বিল্ডিং দফতরে ৫০টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়ে—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উল্লেখ থাকে পাপ্পুর পরিচিত ভূমিকার কথা।
ঘটনাচক্রে, সোমবারই ইডি তলব করেছিল কলকাতার রাসবিহারির বিধায়ক দেবাশিষ কুমারকে। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত সোনা পাপ্পু। ফলে, বুধবারের অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, “সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, দেবাশিষ কুমার ও জাভেদ খানকে গ্রেফতার করতে হবে। উদ্ধার হওয়া টাকা তৃণমূলের নির্বাচনী খরচের জন্যই জমা রাখা হয়েছিল।”
ইডির এই তল্লাশি অভিযানের পর দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেড়েছে। পলাতক সোনা পাপ্পুর খোঁজে তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।







