ক্রীড়াক্ষেত্রে ফের উড়ল বাংলার জয়পতাকা। ছত্তিশগড়ে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস’-এ ১০ হাজার মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতে এক ঐতিহাসিক নজির গড়লেন শিলিগুড়ির সঞ্জিতা ওরাওঁ। দেশজুড়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত ক্রীড়াবিদদের এটাই ছিল প্রথম সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা।
৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০০ ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন এই গেমসে। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ছিল মোট ৭টি খেলা। এর আগেই বাংলার ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরপর অ্যাথলেটিক্সে অতিরিক্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন ২৩ বছরের সঞ্জিতা।
শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ির হাতিঘিসার মৌরিজোত গ্রামের সঞ্জিতা ১০ হাজার মিটার দৌড় শেষ করেন ৪০ মিনিট ২১.৮ সেকেন্ডে। সোমবার তার বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা জানান শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ।
সাফল্যের পর সঞ্জিতা বলেন,
“প্রথম জাতীয় আদিবাসী গেমসে সেরা হওয়াটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই সাফল্য আমাকে আরও উন্নতি করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
দারিদ্রকে সঙ্গী করেই লড়াইয়ের পথচলা সঞ্জিতার। বাবা বিজয় ওরাওঁ পেশায় দিনমজুর, মা রিতা গৃহবধূ। হাতিঘিসা হাই স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক সুজয় ঘোষ রায় প্রথম তাঁর প্রতিভা চিনতে পেরে প্রশিক্ষণে জোর দেন। যথাযথ পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও সঞ্জিতার প্রতিদিনের যুদ্ধ ছিল অনবরত—
• শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অস্থায়ী মাঠে দিনে দু’বার অনুশীলন,
• বর্ষায় চা-বাগানের ভেতরের রাস্তায় দীর্ঘ দৌড়ের ট্রেনিং।
এলাকায় এখনও মানসম্মত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড পরিকাঠামো নেই। তবুও প্রতিকূলতাকে জয় করে জাতীয় মঞ্চে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখলেন বাংলার এই অ্যাথলিট।
বাংলার ক্রীড়া ইতিহাসে যোগ হল আরও এক উজ্জ্বল অধ্যায়—দেশের বুকে স্বর্ণপদকের গৌরব এনে দিলেন সঞ্জিতা ওরাওঁ।







