বরুন চক্রবর্তী, যিনি একসময় পরিচিত ছিলেন তার ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ পরিচয়ে, এখন পুরোদস্তুর ‘ওভারস্পিন’ বোলার। এই বদলে যাওয়াই ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করার মূল চাবিকাঠি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে তার ৩ উইকেট শিকার (৩/২৩) ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৩২ রানে আটকে দেয়। ভারত সহজেই ম্যাচ জেতে ৪৩ বল বাকি থাকতে।
২০১৯ সালে অভিষেক করা ভারুনের ক্যারিয়ার ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে হুমকির মুখে পড়ে। কিন্তু তার পরবর্তী পরিশ্রম আর কৌশলগত পরিবর্তন তাকে আবারও ভারতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে। সাইডস্পিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে, তিনি মনোযোগ দেন ওভারস্পিনে। বাউন্স ও ডিপের মিশেলে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে উইকেট নেওয়ার কৌশল তাকে নতুন ধার দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ২৪ বলে ১৪টি তিনি ফেলেছেন ‘গুড লেংথে’, যা ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করতে বাধা দেয়। হ্যারি ব্রুক এবং জস বাটলার তার শিকার হন এমনই মাপা লেংথের বলে। ম্যাচ শেষে বরুন বলেন, “আমি সবসময় উইকেট খুঁজতে থাকি। একটা ছক্কা খেলেও পরের বলেই আমি আক্রমণাত্মক থাকতে চাই।”
তার এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তার গভীর আত্মবিশ্লেষণ। তিনি স্বীকার করেন, “সাইডস্পিন দিয়ে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ওভারস্পিনের ওপর কাজ করেছি।”
ভারুনের এই জাদুকরি রূপান্তর প্রমাণ করে, সঠিক মানসিকতা ও পরিকল্পনা থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। তার বল এখন শুধু উইকেটই নিচ্ছে না, বরং তার জন্যই প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা।







