বিদেশ

বাংলাদেশে ‘ডিপ স্টেট’ বিতর্ক: আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জুলাই আন্দোলনের ভূমিকায় নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি জনপরিসরে নতুন মাত্রায় আলোচিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৪-এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক দাবি, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি অভিযোগ তোলেন—ডিপ স্টেট নাকি ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, আন্দোলনে সাফল্য না এলে ছাত্রনেতাদের একটি অংশ সশস্ত্র প্রস্তুতি পর্যন্ত নিয়ে রেখেছিল। আসিফ, সারজিস আলম, ওসমান হামি বা নাহিদ ইসলামের মতো নেতারা আন্দোলনের আগ পর্যন্ত মূলত প্রথাগত ছাত্রসংগঠনের ছায়ায় ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কথিত ডিপ স্টেট বলতে বোঝানো হচ্ছে—আমলাতন্ত্র, নিরাপত্তা সংস্থার একাংশ, বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত এনজিও, সুশীল সমাজের কিছু প্রভাবশালী অংশ এবং গণমাধ্যমের একটি শক্তিশালী বলয়ের সমন্বয়। তাদের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তে চাপ সৃষ্টি করে এবং প্রভাব খাটিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে।

ইউনুস সরকারের সময় বিদেশি সংস্থার যোগাযোগ, এনজিও ফান্ডিং, গণমাধ্যমের অবস্থান—এসবকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা ছাত্রআন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনা সরকার যেমন এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংঘাতে গিয়েছিল, বর্তমান তারেক রহমান–নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও একই ঝুঁকির মুখে। ডিপ স্টেটের সঙ্গে সমঝোতা বজায় রাখতে না পারলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আবারও বাড়তে পারে বলে মত তাদের।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা—ডিপ স্টেটের ভূমিকাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.