নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ভোটের ময়দানে West Bengal Assembly Election 2026 ঘিরে উত্তর কলকাতার লড়াই বরাবরই তীব্র ও বহুমাত্রিক। সেই প্রেক্ষাপটে এ বার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে মোট বুথের প্রায় অর্ধেককেই ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে জানান, অতীতের ভোট-অভিজ্ঞতা, এলাকার ঘিঞ্জি পরিকাঠামো এবং উচ্চ জনঘনত্বের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুথ বিন্যাসে কড়া নজর
উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা এলাকায় মোট বুথ সংখ্যা ১,৮৩৫। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৮৩৭টি বুথ ‘অতি স্পর্শকাতর’ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই বুথগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
ডিইও-র কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতি এবং অতীতের ভোটচিত্র বিচার করেই এই তালিকা তৈরি। তবে ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে আরও এক দফা পর্যালোচনা হবে। প্রয়োজনে সংখ্যা বাড়ানোও হতে পারে।”
মহিলা পরিচালিত বুথে বিশেষ জোর
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এ বার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে ১০০টি বুথ সম্পূর্ণ মহিলা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
এই বুথগুলিতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায়ও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
নিরাপত্তায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি
রাজনৈতিক মহলের মতে, North Kolkata-র ঘিঞ্জি গলি, পুরনো বসতি ও জনসংখ্যার ঘনত্ব ভোট পরিচালনায় বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই এ বার কমিশনের এই কড়া অবস্থান।
অতি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে—
কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো
সিসিটিভি নজরদারি জোরদার
কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা
নিয়মিত এলাকা ফ্ল্যাগ মার্চ
এই সমস্ত ব্যবস্থাই নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।
ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
২৯ এপ্রিলের ভোটকে সামনে রেখে এখন উত্তর কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত ‘নিশ্ছিদ্র চাদর’-এ ঢাকতে চাইছে কমিশন। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই দাবি প্রশাসনের।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট—উত্তর কলকাতার ভোটযুদ্ধ এ বার শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতারও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।







