মহারাষ্ট্রের নাসিকে Tata Consultancy Services (টিসিএস)-এর একটি শাখাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক মহিলা কর্মীর দাবি, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের নিয়মিত যৌন হেনস্থা, কুরুচিকর মন্তব্য এবং ধর্মীয় অবমাননার শিকার হতে হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এবং তদন্ত যত এগোচ্ছে, অভিযোগের পরিধি ততই বাড়ছে।
‘প্লেয়ার’ বলে অপমান, ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার চর্চা
অভিযোগকারী এক কর্মীর বয়ান অনুযায়ী, বিয়ের পর নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। সহকর্মী ও টিম লিডারদের একাংশ নাকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নিয়মিত অশালীন প্রশ্ন করতেন— হানিমুন, অতীত সম্পর্ক, স্বামীর অনুপস্থিতি— কোনও বিষয়ই বাদ যেত না। তাঁকে ‘প্লেয়ার’ বলে সম্বোধন করা হত বলেও অভিযোগ।
শারীরিক স্পর্শ থেকে শাড়ি টানা— বাড়তে থাকে হেনস্থা
শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না অভিযোগ। ওই কর্মীর দাবি, এক সহকর্মী বারবার তাঁর শরীরে স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন, পাশে বসার অজুহাতে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চলত। এমনকি শাড়ির আঁচল টেনে ধরার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কটূক্তি এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করা হত।
ভয়, নীরবতা এবং পরে বিস্ফোরণ
নতুন চাকরি এবং তা হারানোর আশঙ্কায় প্রথমে মুখ খুলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন মহিলা কর্মী সামনে আসায় পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া হয়।
কোম্পানির প্রতিক্রিয়া: ‘জিরো টলারেন্স’, তবুও প্রশ্ন
Tata Consultancy Services-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগে তাদের POSH (Prevention of Sexual Harassment) বা এথিক্স চ্যানেলে এমন অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি ওভারসাইট প্যানেল গঠন করা হয়েছে এবং বাইরের সংস্থার সাহায্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। সংস্থার দাবি, কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী Devendra Fadnavis ঘটনাটিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে ‘কর্পোরেট জিহাদ’-এর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবার দাবি করেছে, এটি অফিস রাজনীতির জেরে তৈরি ‘ষড়যন্ত্র’।
বড় প্রশ্ন: কর্পোরেট নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?
এই ঘটনায় একদিকে যেমন কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে, তেমনই কর্পোরেট সংস্থাগুলির অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, নাসিকের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে কর্পোরেট কর্মসংস্কৃতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।







