গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ভাষণকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আকাশবাণী ও দূরদর্শনে সম্প্রচারিত ওই ভাষণ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে—এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন দেশের প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বকারী এই নাগরিকরা কমিশনের কাছে দাবি করেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাঁদের বক্তব্য, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন এই ধরনের ভাষণ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, যা আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী MK Stalin-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী একই অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিষয়টি আগাম নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল এবং কমিশনের সম্মতি নিয়েই তা সম্প্রচারিত হয়। কমিশনের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী যে কোনও সময় সরকারি মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন। তবে এই অনুমতির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ওই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিলটি আটকে দেওয়ার জন্য তাদের দায়ী করেন। এমনকি ‘ভ্রূণ হত্যা’র মতো তীব্র শব্দও ব্যবহার করেন তিনি, যা নিয়ে আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচনের সময় সরকারি প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া উচিত নয়। কারণ এতে ক্ষমতাসীন দল বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। বর্তমানে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ রয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র দূরদর্শন বা আকাশবাণী নয়, সংসদ টিভিতেও ওই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নজীব জং, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পারাকালা প্রভাকর ও জয়তী ঘোষ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও হর্ষ মান্দার, সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণ, সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, শিক্ষাবিদ জোয়া হাসান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার স্বার্থে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার।







