বিবেক অগ্নিহোত্রীর নতুন ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই ছবিতে স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের এক রক্তাক্ত অধ্যায়কে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও তার পরবর্তী গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, কলকাতাকে দাঙ্গার আগুন থেকে রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন গোপাল চন্দ্র মুখার্জি ওরফে গোপাল পাঠা। তিনি নিজের লোকজনকে সংঘবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যদিও তাঁর বংশধরেরা দাবি করেন, পাঠা শুধু প্রতিশোধই নেননি, বহু মুসলমানকেও রক্ষা করেছিলেন। তাঁদের মতে, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শহরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো। কিন্তু ছবিতে সেই ভূমিকাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং তিনি অল্প সময়ের জন্য উঠে আসেন, স্লোগান দেন এবং আবার মিলিয়ে যান।
ছবির মূল কাঠামো চলে যায় অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র খোঁজার দিকে। মুর্শিদাবাদে এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত করতে গিয়ে এক আইপিএস অফিসার ফিরে যান সেই রক্তাক্ত আগস্টে। চরিত্রগুলির মধ্যে গান্ধীকে দেখানো হয়েছে অসহায় ও ভুল সিদ্ধান্তগ্রস্ত হিসেবে, আর মুসলিম লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় হিন্দুদের উপর আক্রমণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী এক মাতাল প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে প্রতিরোধকারীদের করুণ পরিণতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সহিংসতার দৃশ্য চিত্রায়িত হয়েছে ভীষণ ভয়ংকরভাবে। খলনায়ক গুলাম সরওয়ার হুসেইনি, যিনি পরবর্তীতে রাজনীতিতে সরদার হুসেইনি নামে আবির্ভূত হন, তাকেই দেখানো হয়েছে আসল ‘বুচার অব বেঙ্গল’। ছবিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, অতীতের সহিংসতা আজকের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির রূপ নিয়েছে। তবে ছবির দুর্বলতা হল ঢিলেঢালা ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা। গোপাল পাঠার বহুমুখী ভূমিকা অথবা মুসলমানদের বাঁচানোর প্রসঙ্গটি ফুটিয়ে তোলা হয়নি। মুক্তির সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ নির্বাচনের আগে এই ধরনের বার্তা দেওয়া কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা নিয়েই এখন বিতর্ক।
রেটিং – ৩.৫/৫







