পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে টলিউডের অন্দরেও। দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অভিযোগের মাঝে এবার ‘সুস্থ পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। শিল্পী মহলের একাংশের বক্তব্য, এখন থেকে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং কাজের মান এবং মেধাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই নন্দনের পরিবেশে বদলের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী তথা বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলী। তাঁর কথায়, একসময়ের রাজনৈতিক পোস্টারে ভরা নন্দন চত্বর এখন আবার সিনেমার পোস্টারে সেজে উঠছে। বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় দিন ফিরিয়ে আনতে সকল শিল্পী, পরিচালক এবং কলাকুশলীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
সম্প্রতি দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর নন্দনের পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘প্রত্যাবর্তন’ এবং ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ছবি দুটি। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, এই ঘটনা টলিউডে নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভালো ছবিকে প্রেক্ষাগৃহে জায়গা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
এদিকে, টলিউডে স্বচ্ছতা ফেরাতে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী-সহ একাধিক অভিজ্ঞ শিল্পীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের আশা, এর ফলে নতুন প্রতিভাবান শিল্পী ও পরিচালকদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
সিনেমা কিংবা থিয়েটার— দুই ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা বজায় রেখে শুধুমাত্র গুণগত মানের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হলে বাংলা বিনোদন জগত আবারও দেশের অন্যতম শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে উঠে দাঁড়াতে পারবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







