আমেরিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার দুপুরে হঠাৎই আকাশ জুড়ে দেখা যায় একটি উজ্জ্বল অগ্নিগোলা, যার পরপরই শোনা যায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ। ঘটনায় কেঁপে ওঠে নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক সেকেন্ডের জন্য আকাশে এক ঝলমলে আলোর রেখা দেখা যায়। তারপরই ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং রোড আইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও জানালায় কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প বা সামরিক বিমানের শব্দ বলে মনে করেছিলেন।
পরে বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি ছিল একটি উল্কাপিণ্ড, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর প্রচণ্ড তাপ ও বায়ুচাপের কারণে ভেঙে বিস্ফোরিত হয়। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ডেলওয়্যার থেকে শুরু করে কানাডার মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে লক্ষ্য করা গেছে।
নাসার প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, উল্কাপিণ্ডটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিল। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্রায় ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় এটি ভেঙে যায় এবং বিপুল শক্তি নির্গত করে। সেই শক্তির ফলেই সৃষ্টি হয় তীব্র শব্দতরঙ্গ বা ‘সনিক বুম’, যা বহু কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া উপগ্রহ ও রাডার পর্যবেক্ষণেও এই ঘটনার স্পষ্ট চিহ্ন ধরা পড়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি মহাজাগতিক ঘটনা। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিয়মিত ছোট-বড় উল্কাপিণ্ড প্রবেশ করে। তবে দিনের বেলায় এত শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং তার প্রভাব একসঙ্গে অনুভূত হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে এই উল্কাপাত নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।







