যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের শেয়ারবাজারে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম সফল কর্পোরেট সংস্থা হিসেবে পরিচিত Rajesh Exports-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার আয় সংক্রান্ত গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থা এবং এর চেয়ারম্যান-প্রোমোটারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে SEBI।
বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক Rajesh Exports আন্তর্জাতিক সোনা ও মূল্যবান ধাতুর ব্যবসায় একটি পরিচিত নাম। ৩ জুন SEBI তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পর বাজারে সংস্থার শেয়ারের দামে ৫ শতাংশ পতন দেখা যায়। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
SEBI-র প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, টানা পাঁচ বছর ধরে সংস্থাটি তাদের আর্থিক ফলাফলে বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক লেনদেন ও আয়ের পরিমাণ প্রকৃতের তুলনায় অনেক বেশি দেখানো হয়েছিল। এর ফলে ঘোষিত আয়ের অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫৮.৩ বিলিয়ন ডলার বা ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকা।
এই বিপুল অঙ্কের অসঙ্গতি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন কীভাবে বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেল। যদিও তদন্ত এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবুও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কর্পোরেট সংস্থাগুলির আর্থিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক নজরদারি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আসলে এই সন্দেহের সূত্রপাত নতুন নয়। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার SEBI-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে SEBI বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ফরেন্সিক অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয় BDO-কে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত Rajesh Exports-এর মোট ঘোষিত বিক্রির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল। এর মধ্যে সুইৎজ়ারল্যান্ডের Valcambi SA-র ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর আগে অধিগ্রহণ করা এই সংস্থাকেই আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত Rajesh Exports।
সহযোগী সংস্থাগুলির আর্থিক নথি যাচাই করে SEBI একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। তাদের দাবি, Rajesh Exports যে পরিমাণ আয় দেখিয়েছে, তা সহযোগী সংস্থাগুলির যাচাইযোগ্য আর্থিক তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের হিসাবে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার গরমিল ধরা পড়েছে।
অভিযোগগুলি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলে, এটি ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসে আয় সংক্রান্ত তথ্য বিকৃতির অন্যতম বৃহত্তম কেলেঙ্কারি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।







