প্রবাদে আছে, চল্লিশেই নাকি মানুষ সবচেয়ে পরিণত হয়। তবে এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা গেল চল্লিশ বছরের এক ফুটবলারের তারুণ্যদীপ্ত লড়াই, যিনি একাই আটকে দিলেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেনকে। সোমবার রাতে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা দুরন্ত পারফরম্যান্সে হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক। তাঁর অসাধারণ গোলকিপিং এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, আর সামাজিক মাধ্যমেও তিনি রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছেন। মাত্র ৫০ হাজার থেকে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৫০ লক্ষেরও বেশি।
ম্যাচের আগে অনেকেই ভেবেছিলেন, শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দের লড়াই বেশিক্ষণ টিকবে না। কিন্তু সেই ধারণা বদলে দেন ৪০ বছর বয়সি ভোজিনহা। একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিরুদ্ধে দলকে এনে দেন মূল্যবান এক পয়েন্ট। ম্যাচ চলাকালীনই দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর জনপ্রিয়তা। খেলা শুরুর আগে যেখানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল প্রায় ৫০ হাজার, ম্যাচ শেষে তা ৫০ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যাই প্রায় ৫ লক্ষ ২৯ হাজার—অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার প্রায় দশগুণ মানুষ এখন তাঁকে অনুসরণ করছেন।
অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ শেষে আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনহা। চোখে জল নিয়ে জানান, ২০১২ সাল থেকে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। জীবনের নানা সময়ে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু ৪০ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে তিনি অভিভূত। তাঁর কথায়, “এই স্বপ্নটাই সারা জীবন দেখেছি। এই মুহূর্তের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আমাদের আগের অনেক প্রজন্ম এই স্বপ্ন দেখলেও তা পূরণ করতে পারেনি। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমরা গর্বিত, কারণ বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছি।”
সোমবারের ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগকে কার্যত একাই থামিয়ে দেন ভোজিনহা। কখনও আয়মেরিক লাপোর্তের হেড, কখনও মিকেল ওয়ারজাবালের শট—সবই তাঁর হাতে নিরাপদে আটকে যায়। একসময় ম্যাচটি যেন স্পেন বনাম ভোজিনহা দ্বৈরথে পরিণত হয়েছিল। পুরো ম্যাচে স্পেন গোলমুখে মোট আটটি শট নেয়, আর প্রতিটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।







