ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার পর এবার সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে বড় পদক্ষেপ। রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সোমবার মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
বিধানসভা সূত্রে খবর, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ইতিমধ্যেই এই তিন নেতাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
গত ৯ জুলাই সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। দলবদলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের তরফে ঘোষণা করা হয়, আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনে এই তিনজনই দলের প্রার্থী।
আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। বিধানসভার বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তিনটি আসনেই বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দ্রুত প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছিল, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বা বিতর্কিত নেতাদের জন্য দলের দরজা বন্ধ থাকবে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক ব্যতিক্রম। তিনি জানান, তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে শমীক বলেন, তাঁদের পরিচয়ের সঙ্গে ‘দলত্যাগী’ বা ‘তৃণমূলী’ তকমা না জুড়ে এখন থেকে তাঁদের বিজেপির কর্মী হিসেবেই দেখা উচিত।
এর আগে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। দল ছাড়ার পর তিনি তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
এবার সেই সমস্ত বিতর্ক পিছনে ফেলে বিজেপির হয়ে রাজ্যসভার পথে পা বাড়াচ্ছেন তিন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। তাঁদের এই রাজনৈতিক যাত্রা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।







