নয়াদিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের সমপর্যায়ের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী বাদল অধিবেশনে বড় সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত ‘দ্য প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’ পাস হলে, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা সৃষ্টি, অবমাননা বা অসম্মানজনক আচরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান কার্যকর হতে পারে।
বর্তমান ১৯৭১ সালের আইনে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান অবমাননার জন্য একই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সংশোধনীটি কার্যকর হলে সেই আইনের আওতায় জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যকে সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় স্তোত্র একসঙ্গে গাওয়া হলে ‘বন্দে মাতরম’ আগে পরিবেশনের সুপারিশও করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে গানটির ছয়টি স্তবক সম্পূর্ণভাবে গাওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করার কৌশল নিয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অতীতে কংগ্রেস রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেনি। অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল।
আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি উত্থাপিত হলে তা নিয়ে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনীর লক্ষ্য জাতীয় স্তোত্রকে উপযুক্ত আইনি সুরক্ষা দেওয়া। বিরোধীদের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। ফলে বাদল অধিবেশনে এই বিল ঘিরে দুই কক্ষেই জোরালো আলোচনা ও সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।







