শুধু বিধানসভার বিতর্ক বা অধিবেশনে অংশগ্রহণেই নয়, এবার বিধায়কদের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও উপস্থিতির ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর একজন বিধায়ককে ‘সেরা বিধায়ক’ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিধানসভা। বিধানসভায় এই ঘোষণা করেছেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। তিনি জানান, বিধায়কদের কাজের মূল্যায়ন ও রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব একটি স্বতন্ত্র এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
নবীন বিধায়কদের জন্য অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার বার্তা
বর্তমান বিধানসভায় ১৮১ জন সদস্য প্রথমবারের মতো বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের অভিজ্ঞ বিধায়কদের কাছ থেকে সংসদীয় কাজের ধরণ ও কার্যপ্রণালী শেখা উচিত।
রথীন্দ্র বোসের বক্তব্য, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্যা তুলে ধরা, জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কার্যকরভাবে কথা বলা এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে বিধানসভার মঞ্চকে কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা প্রবীণ বিধায়কদের কাছ থেকেই অর্জন করা সম্ভব।
কোন ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হবে ‘সেরা বিধায়ক’?
বিধানসভা সূত্রের খবর, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সম্মান প্রদান করা হবে।
* উপস্থিতি ও কর্মদক্ষতা: অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিতি, আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে কাজ—এসব বিষয়কে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।
* স্বতন্ত্র মূল্যায়ন: একটি বহিরাগত এজেন্সি বিধায়কদের সামগ্রিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে মূল্যায়ন করবে এবং সেই ভিত্তিতে রিপোর্ট জমা দেবে।
* প্রতি বছর একজন সম্মানিত: বিধানসভার বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রতি বছর একজন করে সদস্যকে ‘সেরা বিধায়ক’ সম্মান প্রদান করা হবে।
রাজ্য বিধানসভায় এই ধরনের মূল্যায়নভিত্তিক পুরস্কার চালুর সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, এর ফলে নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের বিধায়কদের মধ্যেই বিধানসভার গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আগ্রহ বাড়বে।







