রাজ্য

বছরে ৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে বেতন! সপ্তম পে কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ প্রকাশ, বড় বদলের ইঙ্গিত

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণ করল রাজ্য সরকার। নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, পেনশন—একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার। বর্তমানে ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো তৈরির সময় সেটি বাড়িয়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নতুন কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য?

সপ্তম পে কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন স্তরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর তুলনামূলক পর্যালোচনা। একই সঙ্গে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন মাপকাঠি বিবেচনা করা হবে।

এ ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আগের হিসাবের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

ডিএ, বাড়িভাড়া থেকে শিক্ষাভাতা—সবই কমিশনের নজরে

শুধু মূল বেতন নয়, কর্মীদের বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভরতুকি-সহ বিভিন্ন সুবিধা নির্ধারণে কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কমিশন।

মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা তৈরির জন্য ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’-এর সুপারিশ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও নির্দিষ্ট নিয়ম চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

অবসরের পরেও একাধিক সুবিধার সম্ভাবনা

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করবে সপ্তম পে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধার, অবসরের সময়ে ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার সম্ভাবনা।

সরকারি, সরকার পোষিত এবং আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-পেনশন বৃদ্ধি, পদোন্নতি এবং অন্যান্য পরিষেবাগত বিষয়ও কমিশনের পরিধির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ছয় মাসের মধ্যেই রিপোর্ট?

রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বেতন, ডিএ, ডিআর, পেনশন এবং বিভিন্ন ভাতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ফলে এখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের নজর সপ্তম পে কমিশনের রিপোর্টের দিকে। বিশেষ করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে পৌঁছয় কি না, কেন্দ্রের সঙ্গে বেতন কাঠামোর কতটা সামঞ্জস্য তৈরি হয় এবং ডিএ-ডিআরের ক্ষেত্রে কী নতুন নিয়ম আসে—সেদিকেই তাকিয়ে কর্মী মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.