আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারতীয় নৌবাহিনী। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডে তৈরি অত্যাধুনিক পেট্রোলিং ভেসেল ‘শ্রুতি’ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জলে নামানো হল। সমুদ্রপথে নজরদারি এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেই এই নৌযানকে কাজে লাগানো হবে।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মোট ১১টি পেট্রোলিং ভেসেল তৈরির বরাত পেয়েছে গার্ডেনরিচ। ‘শ্রুতি’কে নিয়ে ইতিমধ্যেই চারটি জাহাজ নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৬ মে ‘সংঘমিত্রা’ নামে আরও একটি পেট্রোলিং ভেসেল জলে নামানো হয়েছিল।
নামের দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে ‘শ্রুতি’র। সংস্কৃত এই শব্দের অর্থ—‘যা শোনা যায়’। ভারতীয় ঐতিহ্যে ‘শ্রুতি’ বলতে চার বেদকেও বোঝানো হয়। সেই ঐতিহ্যের নামেই আধুনিক প্রযুক্তির এই নৌযান।
কী কী কাজে ব্যবহার হবে ‘শ্রুতি’?
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকে টহল দেওয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে এই জাহাজ। উপকূল থেকে গভীর সমুদ্র—বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি চালানো হবে। সন্দেহজনক জাহাজের গতিবিধির উপর নজর রাখার পাশাপাশি সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এটি।
শুধু নজরদারি নয়, সমুদ্রে দুর্ঘটনার কবলে পড়া জাহাজ বা বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজেও ব্যবহার করা যাবে ‘শ্রুতি’। ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানেও এই নৌযান কাজে আসবে।
কতটা শক্তিশালী?
গার্ডেনরিচ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘শ্রুতি’র দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৩ মিটার, প্রস্থ ১৪.৬ মিটার। প্রায় ৩,০০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন এই পেট্রোলিং ভেসেল সর্বোচ্চ ২৩ নট গতিতে ছুটতে সক্ষম।
অর্থাৎ, শুধু যুদ্ধের জন্য নয়—সমুদ্রসীমা পাহারা, নজরদারি, উদ্ধার এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে গার্ডেনরিচের তৈরি এই নতুন নৌযান।







