তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় বার্তা বাংলার! নিউটাউনে এল অ্যান্ড টি-র নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন। বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ যুবকদের রাজ্যে ফেরার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর।
পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল নিউটাউনের নতুন উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এল অ্যান্ড টি-র ‘আনন্দ নিকেতন’ ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করা হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন অফিসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রায় ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছে এই বিশাল অফিস ক্যাম্পাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই নিউটাউন ক্যাম্পাসে ধাপে ধাপে প্রায় ৫৮০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এটি বড় কর্মসংস্থানের দরজা খুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘বাংলায় ফিরুন’, দক্ষ যুবকদের বার্তা
অনুষ্ঠান থেকে বাংলার বাইরে কর্মরত দক্ষ ও মেধাবী যুবকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ কিংবা দেশের বাইরে কর্মরত বাংলার ছেলেমেয়েদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাই কাজের সন্ধানে আর রাজ্য ছাড়ার প্রয়োজন হবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।
বিনিয়োগ টানাই লক্ষ্য
নিউটাউনের এই নতুন ক্যাম্পাসকে রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ফের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগগুলিকেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে রাজ্যে আরও বড় বিনিয়োগ আসবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘বাংলাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যে দক্ষ কর্মীর কোনও অভাব নেই। অতীতে যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।
নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে বাংলার যুবসমাজকে রাজ্যের মধ্যেই কাজের সুযোগ করে দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “যুব সমাজকে আর রাজ্য ছাড়তে হবে না।”
নিউটাউনে এল অ্যান্ড টি-র এই বিশাল ক্যাম্পাস উদ্বোধনকে তাই শুধু একটি নতুন অফিসের সূচনা নয়, বরং বাংলায় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।







