বিদেশ

নেপালে মহাপ্রলয়ের ৫ দিন পরও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, ৮০৪ দেহ উদ্ধার! চিনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন। সময় যত এগোচ্ছে, ততই লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৮০৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। এরই মধ্যে এই ভয়াবহ দুর্যোগ ঘিরে চিনের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। নেপালের দাবি, বিপর্যয়ের প্রায় তিন মাস আগে হিমবাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হলেও তা সময়মতো দেয়নি চিন।

হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ার ঠিক তিন মাস আগে, গত মে মাসে কাঠমান্ডুতে এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন নেপাল ও চিনের আধিকারিকরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের অভিযোগ, হিমবাহের গতিবিধি, জলস্তর এবং চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত যে তথ্য প্রয়োজন ছিল, তার সবটা চিনের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

গত ২৭ মে-র ওই বৈঠকে ১০ জন নেপালি আধিকারিকের পাশাপাশি তিব্বতের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১২ জন চিনা আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। বন্যা, আবহাওয়া এবং হিমবাহজনিত বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, হিমবাহ-হ্রদের তালিকা তৈরি এবং কোনগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা চিহ্নিত করে মানচিত্র তৈরির জন্য যৌথ উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল।

নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের হাইড্রোলজিস্ট সৌহার্দ্র জোশী রয়টার্সকে জানান, হিমবাহের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা দিলে আগেভাগে জানানোর জন্য চিনের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই তথ্যের প্রয়োজন এখনও রয়েছে।

যদিও নেপালের অভিযোগ মানতে নারাজ চিন। চিনা দূতাবাসের দাবি, এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং নেপালকে প্রয়োজনীয় তথ্যও দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, দুর্গম হিমালয় সীমান্ত এলাকায় প্রাকৃতিক বিপদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন।

তবে নেপালের হাইড্রোলজিস্ট বিনোদ পরাজুলির দাবি, তিব্বত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে চিনের তরফে তার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। কিন্তু তুষারধস, জলস্তর বৃদ্ধি বা ভূমিধসের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়মিতভাবে পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস যথেষ্ট নয়। হিমবাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্তত প্রতি ১০ মিনিট অন্তর তথ্য প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ভয়াবহ বন্যার পর নেপালে শুরু হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের গণকবর দেওয়ার প্রক্রিয়া। প্রশাসনের উদ্যোগে চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে শত শত কবর খোঁড়া হয়েছে। সেখানে পচন ধরতে শুরু করা অজ্ঞাতপরিচয় দেহগুলি সমাহিত করা হচ্ছে। গত দু’দিনে ১৯৬টি দেহ কবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বহু দেহ ইতিমধ্যেই এতটাই পচে গিয়েছে যে সেগুলি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিটি দেহের সঙ্গে আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.