বিদেশ

হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগে আন্দোলনের রূপরেখা, তারেক সরকারকে চাপে ফেলতে ধারাবাহিক কর্মসূচির সিদ্ধান্ত

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছেন আওয়ামী লিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রত্যাবর্তনের আগে দলকে কীভাবে সক্রিয় করা হবে, তা নিয়ে দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে আওয়ামী লিগ।

বৈঠকে শেখ হাসিনা-সহ একাধিক নেতা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। আওয়ামী লিগের দাবি, বিএনপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং বহু মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। দলের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ফের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, ডিসেম্বরের আগে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারের উপর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। গ্রেফতার বাড়লে জেলগুলিতে জায়গার সংকট তৈরি হতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি।

আওয়ামী লিগের এক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কর্মসূচিগুলির প্রধান লক্ষ্য হবে তারেক রহমানের সরকারকে কার্যত অচল করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা। ওই নেতার দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পুলিশ-প্রশাসন সরকারের নির্দেশ মানছে না। গ্যাস, সিএনজি ও বিদ্যুতের ঘাটতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই মেলেনি।

সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের পথে যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লিগের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হলেও, আইনি ও কৌশলগত কারণে দলীয়ভাবে সংঘাতমূলক কর্মসূচি ঘোষণা নাও করা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। ব্যক্তিগতভাবে দলের নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করতে পারেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লিগের বর্ষীয়ান নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশে ফিরে দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যেই রবিবার ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আওয়ামী লিগ। দলটির অঙ্গসংগঠন যুবলিগের তরফে আগে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। দলীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবারের বৈঠকে আওয়ামী লিগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওই কর্মসূচিকে সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর জেলা থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত ধাপে ধাপে আরও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

তবে দিল্লির বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে—কিছু প্রতিবেদনে বৈঠক বাতিল বা ভার্চুয়াল করার কথা বলা হয়েছে, আবার অন্য প্রতিবেদনে শুক্রবার রাতে বৈঠক হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.