প্রায় ছ’বছর পর ফের আলোচনায় ২০২০ সালের সেই বহুচর্চিত জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার মামলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে। ধৃতদের নাম রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডল। তাঁদের গ্রেফতার করেছে উস্তি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি একটি খুনের চেষ্টার মামলার তদন্তে রিপন ও সঞ্জীবের নাম সামনে আসে। তাঁদের গ্রেফতারের পর উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। এরপরই পুরনো নাড্ডা কনভয় হামলার মামলার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্রের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের ওই ঘটনায় তাঁদের যোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
কী ঘটেছিল ২০২০ সালে?
২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। উস্তির শিরাকোলের কাছে তাঁর কনভয়কে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ফলতার দোস্তিপুরেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশি নথি ও সমসাময়িক প্রতিবেদনে উঠে আসে। ঘটনায় নাড্ডার কনভয়ের একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
সেই সময় নাড্ডার সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং দলের নেতা সুকান্ত মজুমদার। হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্ব হামলার জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
পুরনো মামলা ফের খোলা, তদন্তে নতুন মোড়
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নাড্ডার কনভয়ে হামলার পুরনো মামলার তদন্ত ফের সক্রিয় করা হয়েছে। সেই তদন্তের সূত্রেই রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডলের নাম সামনে এসেছে।
পুলিশের দাবি, এলাকায় দু’জনের বিরুদ্ধে বাইক বাহিনী নিয়ে দাপট দেখানো এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে নাড্ডার কনভয়ে হামলার সময় তাঁদের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং হামলার সঙ্গে তার কোনও যোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন—শিরাকোলের সেই হামলায় আরও কারা জড়িত ছিলেন, হামলার নেপথ্যে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না এবং ধৃত দুই নেতার ভূমিকা ঠিক কতটা ছিল।
ছ’বছর পুরনো একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও কোনও নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর।







