স্কুল রয়েছে, কিন্তু পড়ুয়া নেই। কোথাও আবার পড়ুয়া থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার একাধিক স্কুলের এমনই চিত্র সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমস্যার কারণে পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুলশিক্ষার স্বাভাবিক ছন্দ কার্যত ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, পাহাড়ের বেশ কিছু দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত একাধিক স্কুলে ছাত্রভর্তির সংখ্যা অত্যন্ত কমে গিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। আবার কোথাও শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় নিয়মিত পঠনপাঠন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কাগজে স্কুল, বাস্তবে কী অবস্থা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। খাতায়-কলমে প্রতিষ্ঠানগুলি চালু থাকলেও বাস্তবে কোথাও পড়ুয়ার অভাবে কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ছে শ্রেণিকক্ষ, আবার কোথাও শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ক্লাস।
পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল, কোন স্কুলে কতজন পড়ুয়া রয়েছে, কোথায় শিক্ষক পদ খালি এবং কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবে কতটা সচল—এবার সেই তথ্যই খতিয়ে দেখছে শিক্ষা দফতর।
সূত্রের দাবি, বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে শিক্ষা দফতরের শীর্ষ কর্তারা ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির পরিকাঠামো, ছাত্রসংখ্যা এবং শিক্ষক সংক্রান্ত তথ্যও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
এবার কি বদলাবে ছবিটা?
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে শিক্ষক সংকটের কারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা পদগুলির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রশাসন।
শিক্ষা দফতরের নজরদারি শুরু হওয়ায় এখন প্রশ্ন, পাহাড়ের এই বেহাল শিক্ষাচিত্র বদলাতে কী পদক্ষেপ করা হয়। বন্ধ বা কার্যত অচল হয়ে পড়া স্কুলগুলিকে কীভাবে ফের পঠনপাঠনের মূল স্রোতে আনা হবে, শিক্ষক ও পড়ুয়ার ঘাটতি কীভাবে মেটানো হবে—তার উত্তরই এখন খুঁজছে শিক্ষা দফতর।






