বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছিল বিয়ের প্রস্তুতিও। আগামী ডিসেম্বরেই নতুন জীবনে পা দেওয়ার কথা ছিল ১৯ বছরের চঞ্চল রায়কোয়ারের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। বিয়ের আগেই বাড়ির ভিতর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল তরুণীর। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁরই প্রাক্তন প্রেমিক কমল রায়কোয়ারের দিকে।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির সিপরি বাজার থানা এলাকার সিদ্ধেশ্বর নগরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে বাড়িতে একাই ছিলেন চঞ্চল। সেই সময় পিছনের দেওয়াল টপকে বাড়িতে ঢোকে কমল। অভিযোগ, এরপর খুব কাছ থেকে চঞ্চলের মাথায় গুলি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে।
পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে চঞ্চলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
কাকার সামনেই বিস্ফোরক দাবি!
ঘটনার পর আরও চাঞ্চল্য ছড়ায় চঞ্চলের কাকার বক্তব্যে। পরিবারের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মোনু রায়কোয়ার। ফেরার পথে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় কমলের। অভিযোগ, সেখানেই কমল তাঁকে বলে, সে চঞ্চলকে গুলি করে এসেছে এবং বাড়িতে গিয়ে দেখে নিতে।
প্রথমে কমলের কথা বিশ্বাস করতে পারেননি মোনু। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তাতে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন চঞ্চল।
চার বছরের সম্পর্ক, তারপর বিয়ে অন্যত্র
পরিবারের দাবি, কমলের সঙ্গে চঞ্চলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় চার বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে পরে একটি ভিডিওতে দাবি করে কমলও। তবে পরিবারের অভিযোগ, ওই সম্পর্কের কারণে চঞ্চলকে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এমনকি তাঁর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরবর্তীতে চঞ্চলের বিয়ে অন্যত্র ঠিক করে পরিবার। ডিসেম্বর মাসে বিয়ের কথা ছিল। নবরাত্রির সময় তিলকের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। সেই মতো বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল।
খুনের কয়েক ঘণ্টা আগে ভাইরাল ভিডিও
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে কমলের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সে দাবি করে, প্রায় চার বছর ধরে চঞ্চলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। পরিবারের আপত্তি এবং চঞ্চলের অন্যত্র বিয়ে ঠিক করার বিষয়েও অভিযোগ তোলে সে। তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও ভিডিওতে দাবি করেছিল কমল।
তবে ভিডিওতে করা এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার অভিযুক্ত
চঞ্চলের মৃত্যুর পর অভিযুক্ত কমলের খোঁজে একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ-সহ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কমলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশের দাবি, তাঁর কাছ থেকে একটি ৩১৫ বোরের বন্দুক, একটি কার্তুজ এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।
চার বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। আর তার মধ্যেই তরুণীর এভাবে মৃত্যু ঘিরে ঝাঁসিতে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে এবং খুন—ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।







