কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ বছর ধরে চলে আসছে পূর্ব বর্ধমান জেলার, রায়না দুই ব্লকের মাধবডিহি থানার অন্তর্গত পাঁইটা দুই নম্বর অঞ্চলের পাঁইটা গ্রামের রক্ষাকালী মায়ের পূজো। যেটা একটা ঐতিহাসিক পুজো। পুজোটি অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখ মাসে প্রথম মঙ্গলবার।
কথিত আছে যে, তখনকার দিনে মহামারী ( কলেরা,বসন্ত) ছড়িয়ে পড়েছিল পাঁইটা গ্রামে, তার হাত থেকে বাঁচার জন্য হুগলি জেলার হাসানডিঙি গ্রামে ব্রাহ্মণদের এনে পূজা অর্চনা করে এবং পাঁইটা গ্রামের মানুষরা মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা পান। দেবী মায়ের মূর্তি সদ্য রাতে তৈরি হয় এবং ভোরের আলোয় নিরঞ্জন হয়। চারিদিক থেকে ভক্তের আগমন হয় শুধুমাত্র দেবীর মুখটি দেখার জন্য। কমপক্ষে দেবীর ভক্তের সংখ্যা আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার। বর্তমানে মন্দিরের সেবাইত ব্রহ্মানন্দ ভট্টাচার্য।
গ্রামে দেবীর পুজোর জন্য কোনরূপ চাঁদা তোলা হয় না। মুক্তহস্তে দানের টাকায় দেবীর পূজো হয়। যারা গ্রামের বাইরে থাকে, বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিগণ সবাই পূজোয় আসেন এবং সারারাত গ্রাম প্রদক্ষিণ করে মাঝরাতে দেবীকে মেন মন্দিরের বেদিতে বসানো হয়। জানা গেছে দেবীর মন্দির তৈরি প্ল্যানিং দেন ইঞ্জিনিয়ার প্রভাত দত্ত ( বেলুড় মঠের দ্বাদশ প্রেসিডেন্ট শ্রীমৎ স্বামী ভূতেশানন্দ মহারাজের শিষ্য )। মায়ের মন্দিরের স্থান ছোট থাকায় ভক্তদের নানারকম অসুবিধা হতো। এই অসুবিধা দূর করার জন্য( ভক্তদের কথা মাথায় রেখে) পাঁইটা গ্রামেরই দত্ত পরিবারের কোন একজন ব্যক্তি যার নাম সম্ভবত আনন্দ দত্ত একটি বৃহৎ পুকুর দান করেন, মায়ের মন্দির নতুনভাবে সেখানে নির্মাণ করা হয়। আর সেইখানে চলে আসছে মায়ের পূজা অর্চনার কাজ।







