কিছুদিন আগে ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন’ করার অভিযোগে এথিক্স কমিটির সামনে মহুয়া হাজির হলে, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাতে কার সঙ্গে কথা বলেন? কী কথা বলেন? এরপরই মহুয়া এবং কমিটিতে থাকা বিরোধী সাংসদরা বেরিয়ে এসেছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, মহিলা সাংসদ মহুয়াকে ‘ব্যক্তিগত এবং অনৈতিক’ প্রশ্ন করা হয়েছে।এমনকি বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছে পার্লামেন্টে এথিক্স কমিটি। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। এরকই মধ্যে আবার উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হল, মহুয়া মৈত্রের পার্লামেন্টের অ্যাকাউন্ট দেশের বাইরে ৩ জায়গা থেকে লগইন করা হয়েছিল। আর তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকাও।
জানা যায়, মহুয়া নাকি দুবাইয়ের শিল্পপতি হিরান্দানিকে সংসদের অ্যাকাউন্টের লগইন দিয়েছিলেন। দুবাইয়ে বসেই নাকি হিরান্দানি সাংসদ মহুয়া মৈত্রের লোকসভা অ্যাকাউন্ট খুলতেন এবং তাতে প্রশ্ন লিখে দেওয়ার জন্য সাংসদকে নাকি মোটা টাকাও দিয়েছিলেন তিনি। সাংসদ প্রথমে সেকথা স্বীকার করলেও পরে অবশ্য তিনি বলেছেন এরকম কোনও কাজই তিনি করেননি।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পার্লামেন্টের এথিক্স কমিটি। এমনকি স্বয়ং মহুয়াকে জেরা ও করা হয়। তারপরেই তাঁকে লোকসভা থেকে বরখাস্ত করার প্রস্তাবে ভোট হয়, আর সেই ভোটাভুটিতে সিলমোহরও পড়েছে।
তারপরেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে একের পর এক তথ্য। জানা গিয়েছে যেদিন সাংসদের লোকসভার অ্যাকাউন্ট লগ ইন করা হয়েছিল সেদিন সাংসদ কলকাতা এবং দিল্লিেত ছিলেন।নিউ জার্সি থেকে যেদিন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল সেদিন তিনি কলকাতায় ছিলেন এবং যেদিন দিল্লিতে ছিলেন সেদিন বেঙ্গালুরু থেকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু এই বিষয়ে মহুয়া মৈত্রের পাশেই দাঁড়িয়েছে। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।” গতকাল আবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহুয়া মৈত্রর পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “মহুয়াকে তাড়ানোর চক্রান্ত চলছে”।







