রেললাইনে হাতির দুর্ঘটনা রুখতে নজরদারি ও সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রক। হাতিদের দৈনন্দিন গতিবিধি দ্রুত আদান–প্রদানের জন্য ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারদের নেতৃত্বে পুলিশ, রেল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। রেললাইনের সংযোগ রয়েছে এবং যেখানে নিয়মিত হাতির পাল যাতায়াত করে—এমন সব রুটে লোকো পাইলটদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রাখার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে।
রবিবার সুন্দরবনের গোসাবায় ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির বৈঠকে এবং প্রোজেক্ট এলিফ্যান্টের ২২তম স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসম, ঝাড়খণ্ড ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ১১০০টি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে রেললাইনের কাছাকাছি হাতির আনাগোনা রয়েছে। সম্প্রতি অসমে ট্রেন দুর্ঘটনায় আটটি হাতির মৃত্যু এই উদ্যোগকে আরও জরুরি করে তুলেছে।
মন্ত্রী বলেন, এই হটস্পট এলাকাগুলিতে হাতির চলাচলের আপডেট রিয়েল-টাইমে ভাগ করতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ বা সতর্কতা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পশ্চিমবঙ্গে যদিও আগেই বনদপ্তরের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু রয়েছে। ডিএফও, এসপি, রেঞ্জ অফিসার, জেএফএমসি এবং রেলের প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য আদান–প্রদান হয়। রেল দুর্ঘটনার পাশাপাশি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গেও সমন্বয় চলছে।
এদিকে লোকালয়ে হাতির প্রবেশ কমাতে জঙ্গলে খাবার ও পানির ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। দক্ষিণবঙ্গে লালগড়, তপোবন, বেলিয়াতোড়, বড়জোড়া ও সোনামুখীতে এবং উত্তরবঙ্গে বক্সা, জলদাপাড়া, গরুমারা ও দার্জিলিং ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনে বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় তৈরি করা হচ্ছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে হাতি সংরক্ষণে ৩৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।







