রাজনীতি

‘হাজি নুরুল জিতলে প্রথম ভিজিট সন্দেশখালি’ ঘোষনা মুখ্যমন্ত্রীর

এবার বসিরহাটে ভোট প্রচারে তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্র থেকে তৃনমূল প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হাজি নুরুল ইসলাম।এদিন মঞ্চে উঠে হাজি নুরুলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মমতা।বলেন, “আমার চিরকালের প্রিয়। ওকে আমি ভালবাসি কারণ ও কখনও হিন্দু মুসলমান করে না। সকলকে নিয়ে মিলেমিশে চলে। ওর মুখে সবসময় হাসি দেখেছি সেটা আমার ভাল লাগে।”

বসিরহাটের মঞ্চ থেকে কী বললেন মমতা? দেখুন….

১.টাকি ছানার মিষ্টি খাওয়াবে তো? ভোটের পর। একটু দিলেই হবে। আমি এমনিতেই বেশি মিষ্টি খাই না।

২.হাজি নুরুল যেদিন জিতবে তার কয়েকদিনের মধ্যে আমার প্রথম ভিজিট এবার সন্দেশখালি হবে। কারণ আমি আপনাদের দেখতে যাব।

৩.৩১ মার্চ থেকে ২ মাস রাস্তায় পড়ে আছি। কাল কলকাতায় ফিরেছি। এখন এই ৯ দিন দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা করতে হবে। বসিরহাটের পবিত্র মাটি থেকে শুরু করলাম। এই লড়াই বড় লড়াই জিততে হবে। বসিরহাট থেকে বিজেপিকে করব খালি।

৪.বিজেপির একজন নেতা কয়েকদিন আগে বললেন ইলেকশনের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে। আমি বললাম, তোদের কত সাহস আমি দেখব। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু চলবে তাই নয়, ৬০ বছর বয়সেও এটা চলবে। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। ভোটের পর আমি আবার একটা দুয়ারে সরকার করে দেব। সেখানে গিয়ে নাম লিখিয়ে করে নেবেন। আগে ছিল ৬০ বছর পর্যন্ত। এখন এটা আমি করে দিয়েছি সারা জীবনভর। এটা আপনার সম্মান, মায়ের গরিমা, মায়ের সম্মান।

৫.বাংলায় একটা একটা করে আসন জিতলে আমরা বাংলা অল ইন্ডিয়া লেভেলে ইন্ডিয়া জোট তৈরি করে দিয়েছিলাম, ইন্ডিয়া জোটকে ক্ষমতায় দিয়ে আসব। এনআরসি ওদের দিয়ে বাতিল করাব, ক্যা বাতিল করাব, ১০০ দিনের কাজ চালু করাব। মানুষের কাজ চালু করাব। তাহলে কী বুঝলেন খেলা হবে? রোদ্দুরে যাঁরা দাঁড়িয়ে বলুন খেলা হবে?

৬.দু’ একজন বড় বড় কথা বলে। আগে তৃণমূল করত এখন বিজেপিতে চলে গিয়েছে। সিবিআই ধরবে ইডি ধরবে ইডি ধরবে বলে।

৭.যেদিন ফাইল খুলবে সেদিন বুঝবে দেশের সব টাকা লুঠ করে বিদেশে পাচার হয়ে গিয়েছে। গলি গলি মে শোর হ্যয় বিজেপি বহুত বড়া শোর হ্যয়।

৮.ইলেকশনের সময় সকলে আশা করে তার জায়গায় আমি যেন যাই। কিছুদিন আগে হিঙ্গলগঞ্জ ঘুরে এসেছি। আমি সন্দেশখালিও যাব, টাকিতেও কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম।

৯.রক্তদান শিবিরে সকলে একসঙ্গে রক্ত দেন। সেই রক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কে চলে যায়। সেখানে গিয়ে কেউ যখন ব্লাড নেবেন হিন্দুর রক্ত না মুসলমানের রক্ত কেউ জানবে না। এর রক্ত ওর গায়ে চলে যায়, প্রাণটা বেঁচে যায়। এটাই আমার দেশ, এটাই ভারতবর্ষ, এটাই বাংলা।

১০.বিজেপির কাজ মিথ্যা প্রচার করা। চারদিকে বলল তৃণমূল চোর হ্যায়। সবথেকে বড় ডাকাত তো বিজেপি দল। সব কিছু বিক্রি করে দিচ্ছে। সিএএ করেছে, ইউনিফর্ম সিভিল কোড করেছে। জানেন কী হবে এগুলো হলে? বাংলায় আমি এনআরসি করতে দেব না।

১১.যদি মনে হয় কারও প্রতি রাগ আছে, আপনাদের বলার জায়গা আছে। একটা চিঠি আমার বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। আমি ঠিক দেখে নেব। আর্জেন্ট হলে করে দেব।

১২.বলেছিল বছরে ২ কোটি করে চাকরি দেব। চাকরি তো দেয়নি উপরন্তু আমার ২৬ হাজার টিচারের চাকরি খেয়ে নিতে গিয়েছিল। চাকরিখেকো বাঘ।

১৩.ওদের নো গ্যারান্টি, ফোর টোয়েন্টি। বলেছিল, সবাইকে ১৫ লাখ টাকা করে দেবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেবে বলেছিল। এদিকে ভোটের সময় কাউকে ২ হাজার চক্রান্ত করার জন্য, ৫ হাজার কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়ার জন্য। এই তো পার্টি অফিস থেকে কোটি কোটি টাকা বেরোচ্ছে। যে ধরল তাকে ইলেকশন কমিশন সাসপেন্ড করে দিল।

১৪.আমাদের বিরুদ্ধে বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল কাগজে। গালাগালি দিয়ে। অভিযোগ করে বিচার পাচ্ছিলাম না। হাইকোর্ট বলে দিয়েছে এটা বেআইনি। মিথ্যা কথা বলে বিজেপি।

১৫.আমাদের বিরুদ্ধে বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল কাগজে। গালাগালি দিয়ে। অভিযোগ করে বিচার পাচ্ছিলাম না। হাইকোর্ট বলে দিয়েছে এটা বেআইনি। মিথ্যা কথা বলে বিজেপি। মানুষ খেতে না পেলে ৫০০ টাকা দেয় না। চক্রান্ত করতে গিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। আর চক্রান্ত, ভোট কিনতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করে।

১৬.আপনাদের এখানে কত মাছের ভেড়ি আছে। অনেকে দখল করে। আবার ছোট ছোট ভেড়ি আছে মানুষ করে খায়। ভেড়ি নিয়ে এতদিন পর্যন্ত কেউ কোনও পলিসি করেনি। আমাদের সরকার একটা পলিসি তৈরি করছে যাতে যার ভেড়ি সে চাষ করুক। না হলে স্বনির্ভর গোষ্ঠী করবে বা দল বেঁধে করবে। তবে সরকারের রেকর্ডে নাম রাখতে হবে। কারও ভেড়ি জোর করে কেড়ে নেওয়া যাবে না। সরকারকেও একটা রেভেনিউ দিতে হবে। তাহলে তার জমিটাও প্রটেক্ট থাকবে।

১৭.বিজেপির কাজ মিথ্যা কথা বলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাশয় একজনকে ফোন করছেন, আর সবাইকে শোনাচ্ছেন, পুরো শিখিয়ে দিয়ে। ক’জনের খোঁজ নেন? আমাদের এখানে এক দু’টো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেষ্ট বিষ্টু রাম রহিম কাউকে ছাড়া হয় না।

১৮.১০০ দিনের টাকা দেয়নি কেন্দ্র। ৬৯ লক্ষ পরিবারকে আমরা টাকা দিয়ে দিয়েছি। কেউ টাকা না পেলে বিডিওকে জানাবেন। এখন কর্মশ্রী চালু করেছি আমরা। গত মাস থেকে। ৫০ দিন পর্যন্ত জবকার্ড হোল্ডাররা কাজ পাবেন, টাকা আমরা দেবো। ৬০ দিন কাজ করতে পারলে তাও করে দেব। এর জন্য দিল্লির পায়ে পড়তে হবে না। আসতে আসতে বাড়ি করে দেব। ৪৩ লক্ষ হয়েছে।

১৯. ২০২১ মানে তিন বছর আগে যে শেষ বিধানসভা ভোট হয় আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা দিয়েছিলাম। করেছি কি না বলুন? বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছি কি না বলুন? ছাত্র ছাত্রীদের স্মার্ট কার্ড করে দিয়েছি। ক্লাস টেনে সবুজ সাথী সাইকেল পায়। ক্লাস টুয়েলভে ওঠে বিনা পয়সায় স্মার্ট ফোন পায় বিনা পয়সায়। পড়াশোনা করতে সুবিধা হয়। আগামিবার ক্লাস ১১-এ দেবো।

২০.এইসব জায়গাগুলোকে পাকাপোক্ত করতে হবে। জল, আকাশ, নদীনালা আমাদের হাতে থাকে না। এত ঝড় জল হয় কারণ বাংলা নদীমাতৃক। এর জন্য প্রচুর টাকা খরচ হয়। ১৫ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা লাগিয়েছি সমুদ্র পার শক্ত করতে। বসিরহাট নতুন জেলা হিসাবে ঘোষণা করব। সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলা। বসিরহাট পুলিশ জেলা ঘোষণা করা হয়েছে।

২১.সেই বারাসতে গিয়ে হেড কোয়ার্টার অনেক কষ্ট হয়। আপনাদের জেলা আপনাদের উত্তর ২৪ পরগনার জায়গাগুলো নিয়ে, বিশেষ করে বসিরহাটের বেশির ভাগ অঞ্চল নিয়ে জেলা হবে। ওদিকে সাগর, সুন্দরবন, বকখালি নিয়ে আরেকটা জেলা হবে। জেলা হলে নতুন সাবডিভিশন হবে, ব্লক হবে। বেশি দূরে যেতে হবে না, কাছাকাছি কাজ হয়ে যাবে।

২২.আমি বিশ্বাস করি প্রত্যন্ত এলাকা সন্দেশখালি। সুকুমার আমাকে অনেকবার বলেছে, নুরুলরা অনেকবার বলেছে পুরো দ্বীপাঞ্চল। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনাটাও আবার অনেক বড়। একদিকে সুন্দরবন, বাঘের কামড়। আপনাদের এদিকেও আছে। অন্যদিকে পুরো বনভূমি, জলাভূমিতে ভর্তি। তাই ঠিক করেছি, সুন্দরবন নিয়ে একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছি। তাতে আপনাদের জেলা নতুন জেলা হবে।

২৩.ভোটের আগে বিজেপির প্ল্যান এ সন্দেশখালি বাতিল হয়ে গিয়েছে। প্ল্যান বি সাম্প্রদায়িক হিংসা তৈরি করা।

২৪.ধূপগুড়ি একজন মহিলা তৃণমূল করত, আজ বিজেপি করে। করতেই পারে এটা অপরাধ নয়। কিন্তু আমি শুনেছি তাঁকে বিজেপি হুমকি দিত। তাঁদের একটা পেট্রোল পাম্প আছে। ভয় দেখাত, যদি তৃণমূল না ছাড়ো তোমার পেট্রোল পাম্প তুলে দেব।

২৫.আমি প্রথমেই বলব সন্দেশখালির মা বোনেদের জন্য আমি নিজে যা ঘটেছে এবং যেভাবে মা বোনেদের অসম্মান করা হয়েছে তারঁ জন্য আমি মর্মাহত, আমি দুঃখিত। মা বোনেদের নিয়ে অসম্মানের খেলা আর যেন কেউ না খেলে। এটা সামনে না এলে মানুষ বুঝতেই পারত না বিজেপি চক্রান্তটা কী করে করেছিল। আরও যে কোনও জায়গায় করতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.