গাজায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। হামাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যখন ইজরায়েল সেনা (IDF) বিপুল এলাকা দখল করে ফেলেছে, ঠিক সেই সময়ই পণবন্দিদের ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ করে একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করছে হামাস। আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি আদায়ের পাশাপাশি ইজরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই আবহে ইজরায়েল সেনাকে কড়া নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে স্পষ্ট বার্তা— “গোটা গাজা দখল করো, নয়তো পদত্যাগ করো।” এই হুঁশিয়ারি নতুন মোড় এনে দিয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে।
ইতিমধ্যেই গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ অঞ্চল দখলে নিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। সেনার দাবি, বাকি ২৫ শতাংশ অঞ্চলেই লুকিয়ে রয়েছে বহু পণবন্দি, যাদের মুক্তি এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এই এলাকাগুলি অবিলম্বে দখল করার প্রয়োজন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২৪ বছর বয়সি ডেভিড নামের এক ইজরায়েলি যুবক টানেলের মধ্যে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বলছেন, “আমি নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছি।” শীর্ণ, অর্ধনগ্ন ডেভিডের ওই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। পরিবারের দাবি, এটি একটি ‘মানসিক চক্রান্ত’— উদ্দেশ্য, ইজরায়েলি জনমানসে ভয় ও চাপ সৃষ্টি করা।
এই ভিডিও ঘিরে ফুঁসে উঠেছে জনতা। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, পণবন্দিদের অবিলম্বে মুক্ত করুক সরকার।
এক টিভি সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “হামাস এই ভিডিও ব্যবহার করে আমাদের মনোবল ভাঙতে চায়। কিন্তু আমরা জানি কীভাবে লড়াই করতে হয়। এবার সময় এসেছে সম্পূর্ণ গাজা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার।”
নেতানিয়াহুর এহেন বক্তব্য যুদ্ধের আগামী ধাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে— যা হয়তো আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে গোটা অঞ্চলকে।







