রাজ্য

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দিলেন রাজ্যপাল

আরজিকরের নক্কারজনক ঘটনার পর থেকে একটানা কর্ম বিরোধীতে রয়েছে জুনিয়র চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য পরিষেবায় অচল অবস্থায় জন্য সংকটের মধ্যে পরছে সাধারণ মানুষ। সেই কারণে বৃহস্পতিবার জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের ডাক দেন। তবে দুই পক্ষের মতের অমিল হয় সেই বৈঠকের ডাক ব্যর্থ হয়। তারপরেই রাজভবন থেকে এক ভিডিয়ো বার্তায় কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বয়কটের ডাক দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

গতকাল সারাদিন টানটান উত্তেজন চলেছে ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর খোলামেলা আলোচনা হবে কিনা সেটা নিয়ে। এমনকি আলোচনার জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে বৈঠক কক্ষে অপেক্ষারত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের শেষ পর্যন্ত লাইভ এর অনুমতি না মেলায় সেখান থেকে ফিরে যায় আন্দোলনকারী ডাক্তাররা। এছাড়াও সব সময় খবরের শিরোনামে দেখা যায় রাজ্য ও রাজভবনের সংঘাত। এবার সেই সংঘাত আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিল স্বয়ং রাজ্যপাল। রাজভবনের থেকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেই সংঘাত আরো বৃদ্ধি হয়েছে।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ সেই ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন। এছাড়াও এই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী পুরোটাই ব্যর্থ বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রশাসনও যথার্থভাবে কাজ করেনি বলে তোপ ডেকেছেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশার দায় পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপিয়েছে রাজ ভবন।

এ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, ‘আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় রাজ্যপাল কী পদক্ষেপ করবেন? আমি সংবিধান, জনতা ও মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। সরকার বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রবলভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সব থেকে বড় বিড়ম্বনা হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনিই আবার মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাদের বিরোধিতা করছেন বাংলার লেডি ম্যাকবেথ। হুগলি নদীর সব জল দিয়েও বাংলার লেডি ম্যাকবেথ নিজের নোংরা হাত দু’টো পরিষ্কার করতে পারবেন না। সড়কে হিংসা। ঘরে হিংসা, ক্যাম্পাসে হিংসা, হাসপাতালে হিংসা, গ্রামে হিংসা, শহরে হিংসা। সব জায়গায় হিংসা। আর মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহুমত গণতন্ত্রের অংশ। চুপ করাবেন না। এই নিঃস্তব্ধতাও হিংসা। লোকে বলছে, আজকে বাংলা কোন নৈরাজ্যের দেশে পরিণত হয়েছে? এর দায়িত্ব তো কাউকে নিতে হবে। যতদিন বাংলার মানুষ বিচার না পাচ্ছেন, দোষীদের গ্রেফতারির জন্য পদক্ষেপ হয়, যতক্ষণ মানুষের মনে এই আস্থা না জন্মায় যে সুবিচার হয়েছে আমি রাজ্যপাল হয়ে অপেক্ষা করতে পারি না। তাই আমি সংকল্প নিচ্ছি যে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কট করব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও প্রকাশ্য মঞ্চে থাকব না। আমি এমন কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে থাকব না যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হাজির রয়েছেন। রাজ্যপাল হিসাবে আমার ভূমিকা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এর থেকে কমও না বেশিও না।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.