কলকাতা

ঋণের টাকা দিতে না পারায় অন্তঃসত্তা স্ত্রীর পেটে লাথি।

আর্থিক সমস্যার কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে রাজেশ সরকার নামে বীরনগর পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডের চন্ডীতলা এলাকার বাসিন্দা। আর্থিক সমস্যার কারণে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন এলাকারই অঞ্জলি চৌধুরী নামে এক মহিলার কাছ থেকে। প্রতিমাসে সময় মত ঋণ পরিশোধ করতে পারলেও সাময়িক সমস্যার জন্যই ঋণের টাকা দিতে না পারায় বাড়ি চড়াও হয় অঞ্জলি চৌধুরী ও তার ছেলে।

এরপর বাড়িতে ঢুকেই রাজেশ সরকারের পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও ঋণ পরিশোধ করার চাপ দেয়। এই ঘটনা চলাকালীন রাজেশ বাড়িতে ঢুকলেই তার উপরে চড়াও হয় অঞ্জলি চৌধুরী ও তার ছেলে। এরপরে ঝাঁটা লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে রাজেশ সরকারকে। রাজেশ সরকারকে বাঁচাতে তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ঠাকাতে গেলে তার পেটে লাথি মারে। এই ঘটনার পরেই এলাকার মানুষ ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর আহত অবস্থায় রাজেশ সরকার ও তার অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে তড়িঘড়ি নিয়ে বীরনগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় স্থানীয়রা।

এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় অঞ্জলি চৌধুরীর ছেলেকে। এরপর রাজেশ সরকার ও তার পরিবার তাহেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে অঞ্জলি চৌধুরীর ছেলেকে গ্রেফতার করলেও এখনো পর্যন্ত অধরা অঞ্জলি চৌধুরী। এই অঞ্জলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এলাকার মানুষ জানাচ্ছেন বেআইনিভাবেই চড়া সুদের ব্যবসা করত এই অঞ্জলি চৌধুরী। এই মহিলার কারণেই কিছুদিন আগেই এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু ঘটে। সেই কলেজ ছাত্রীর পরিবারকেও আর্থিক ঋণ দিয়েছিল চড়া সুদে। সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় মানসিক ভাবে অত্যাচার করার ফলেই আত্ম সম্মানবোধে আত্মঘাতী হয় সেই কলেজ ছাত্রী। সেই ঘটনার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল এই অঞ্জলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

আবারো অন্তঃসত্তার স্ত্রীর পেটে লাথি মারার ঘটনায়ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও কেন এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারল না পুলিশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এলাকার মানুষের দাবি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.