কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী কর্মসূচি (SIR)। এর মধ্যেই হঠাৎই রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়িয়ে বঙ্গ বিজেপিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিন প্রায় একঘরে থাকা বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবার ফিরছেন কি দলের মূল মঞ্চে? জল্পনা তীব্রতর হচ্ছে শনিবারের বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিজয়া সম্মিলনী হবে বিজেপির পুরনো রাজ্য কার্যালয় — ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে। ঠিক সেই অফিসেই, যেখান থেকে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৯ সালে ১৮ জন সাংসদ এবং ২০২১ সালে ৭৭ জন বিধায়ক পেয়েছিল। কিন্তু সেই অফিসেই গত কয়েক বছর তাঁর প্রবেশ ছিল প্রায় নিষিদ্ধ। এমনকি তাঁর ঘর পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আর কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার অপরাধে ঘরবন্দিও হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু রাজনৈতিক ছবিটা বদলাচ্ছে। নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জল্পনা ছিল—দলীয় রদবদল বড়সড় হতে পারে। নভেম্বরেই নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার কথা। তার আগেই দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন শমীক। আর এই বিজয়া সম্মিলনী সেই প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৩টেয় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে, রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠছে—এই বিজয়া সম্মিলনী কি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের মঞ্চ?
দলের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনে দিলীপ ঘোষকে ফের কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন নতুন রাজ্য নেতৃত্ব। তাই মুরলীধর সেন লেনের অফিস ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া তাঁর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতই দিচ্ছে। শনিবারের অনুষ্ঠানই বুঝিয়ে দেবে—দীর্ঘ রাজনৈতিক ‘একঘরে’ পর্বের পর দিলীপ ঘোষ আবার কতটা কেন্দ্রে ফিরতে পারেন।







