স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীর কাছেই হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠল এক নার্সের। আর এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গড়বেতার ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ (BMOH) ডঃ প্রবীর কুমার বাউরী। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নার্সকে যৌন হেনস্থা ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে গড়বেতা থানার পুলিশ।
**কী ঘটেছিল সেদিন?**
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় কিছু নথি সংগ্রহ করতে গড়বেতার BMOH অফিসে গিয়েছিলেন স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা এক নার্স। তিনি কমিউনিটি হেলথ অফিসার পদে কর্মরত। সেই সময়ই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। নার্স সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে যৌন হেনস্থা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় চিকিৎসা করান ওই স্বাস্থ্যকর্মী। প্রথমে লোকলজ্জা ও সম্মানের কথা ভেবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিবারের পরামর্শে রবিবার গড়বেতা থানায় লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। ওই নার্সের আরও অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
**পালানোর চেষ্টা, তারপর গ্রেফতার**
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে গড়বেতা থানার পুলিশ। অভিযুক্ত চিকিৎসক পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। এরপর একাধিক দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হয়। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার তাঁকে গড়বেতা আদালতে পেশ করার কথা।
**বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস**
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য দফতরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ এসেছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন স্বাস্থ্যকর্মীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচার এখনও বাকি।







