জেলা

ল্যাব বিস্ফোরণে মর্মান্তিক পরিণতি অধ্যাপকের

গবেষণাগারে বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন দুর্গাপুরের এনআইটি-র অধ্যাপক তার সাতদিন পরই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন। গত মঙ্গলবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ল্যাবে পরীক্ষাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে। তাতেই গুরুতরভাবে জখম হন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ বসাক এবং এক ছাত্র।
অধ্যাপকের শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে যায় বিস্ফোরণে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার সকালে দিল্লির হাসপাতালে প্রাণ হারালেন বছর চৌষট্টির ইন্দ্রজিৎ বসাক। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নামে ক্যাম্পাসে।
পয়লা বৈশাখের দিন দুর্গাপুর এনআইটি-র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়ুয়াদের থার্মিট ওয়েল্ডিং নিয়ে গবেষণা চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে থাকা রাসায়নিক ছিটকে পড়ে সিটি সেন্টারের রিকল পার্কের বাসিন্দা অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ বসাক এবং আসানসোলের বাসিন্দা এক ছাত্রের উপর। ঘটনাত তাঁরা রীতিমতো ঝলসে যান তারা।আহত দুইজনকে দ্রুত দুর্গাপুরের গান্ধী মোড়ের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও অধ্যাপক দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ ঝলসে যাওয়ায় অবস্থা অবনতির দিকে যায়। পরে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে, তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সেখানেই মৃত্যু হয় ইন্দ্রজিৎবাবুর।

অধ্যাপকের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই এনআইটি ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া। রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওঁর ছাত্রছাত্রী ও পরিবারকে সমবেদনা জানাই।” কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পড়ুয়া এবং অন্যান্য অধ্যাপকরা সকলেই শোকাহত। ল্যাবে কাজ করতে গিয়ে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তাও নেই? এই প্রশ্নে তোলপাড় পড়ুয়া, অভিভাবক মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.