রাজস্থানের মহিলা টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মঙ্গলবার ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। জয়পুরে সীকরের মুখোমুখি হয়ে সিরোহী মহিলা দল গুটিয়ে গেল মাত্র ৪ রানে। ১০ ব্যাটার ফিরলেন শূন্য হাতে, দলের একমাত্র রানকারী অপরাজিত থাকলেন ২ রানে, আর বাকি ২ রান এল অতিরিক্ত থেকে। এমন হতাশাজনক ইনিংস দেখে গ্যালারির দর্শকরাও হাসি চেপে রাখতে পারলেন না, কিন্তু ম্যাচ শেষে পরিস্থিতি কিন্তু একেবারেই হাসির ছিল না।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিরোহীর ব্যাটাররা যেন একে একে ফেরার মিছিল শুরু করেন। বোলারদের কৃতিত্বের চেয়ে ব্যাটারদের অনভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির অভাবই যেন ইনিংস ধ্বংসের মূল কারণ। জবাবে সীকর এক বলেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে—এক রান আসে ব্যাট থেকে, বাকিটা ওয়াইড থেকে। এই ফলাফল শুধু ম্যাচ নয়, গোটা জেলা ক্রিকেট প্রশাসনের ওপরই প্রশ্ন তুলল।
রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনাকে হালকাভাবে নেয়নি। দল নির্বাচনে গাফিলতির অভিযোগে সিরোহীর সমস্ত নির্বাচককে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—যে খেলোয়াড়রা নেট প্র্যাকটিস বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেইনি প্রায় এক বছর, তাদের কীভাবে সরাসরি দলে নেওয়া হল?
আসলে সিরোহী জেলা ক্রিকেট সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতার লড়াইয়ে জর্জরিত। এর ফলে এক বছরেরও বেশি সময় কোনও প্রতিযোগিতা বা অনুশীলন হয়নি। ক্রিকেটাররা ম্যাচের অভ্যাস হারিয়েছেন, আর তারই করুণ প্রতিফলন দেখা গেল জয়পুরের এই ম্যাচে। শুধু হাসির খোরাক নয়, এই পারফরম্যান্স রাজস্থানের মহিলা ক্রিকেটের কাঠামোতেও গভীর সংকেত দিয়ে গেল।







